ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে সাতক্ষীরায় ধ্বংস হয়েছে কাঁচা-পাকা বসতবাড়ি, ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে শস্যক্ষেত, বীজতলা ও পাকা আমন ধানক্ষেতের। উপড়ে গেছে বিপুল সংখ্যক গাছ। ভেসে গেছে মাছের ঘের। সবমিলিয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে জেলায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৭৮ কোটি টাকারও বেশি।

ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে জেলার সদর, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, আশাশুনি, কলারোয়া, তালা ও শ্যামনগরে কমবেশি ৫০ হাজার বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী কৃষিতে ক্ষতি হয়েছে ৩৩ কোটি টাকারও বেশি। হ্যাচারি, চিংড়ি আর মাছের ঘের ভেসে গিয়ে এ খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা। আর ২ হাজারটিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষতি হয়েছে সাড়ে ৪ কোটি টাকার মত।এছাড়াও জেলায় অন্তত সাড়ে ৩ শ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  মাদ্রাসা, মন্দির, গৃহপালিত পশুসহ সবমিলিয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে জেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৭৮ কোটি টাকারও বেশি।

বুলবুলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত সহায়তা চান জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা।সাতক্ষীরা শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম মাসুদুল আলম জানান, ‘মাছের ঘের প্রচন্ড ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় মালিকদের পথে বসবার অবস্থা হয়েছে।’

এদিকে, ঝড়ের পররপরই ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় জেলা প্রশাসন।  আর গৃহনির্মাণ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয় আরও ৩০ লাখ টাকা।  তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় সামনে আরও বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জানালেন জেলা প্রশাসক। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকএস এম মোস্তফা কামাল জানান, ‘ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে কোথাও যদি কোন অনিয়ম হয়, তবে তিনি যেই হোন না কেন তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে