ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেছেন, পাকবাহিনীর নির্মম অত্যাচারের কাহিনী বিশ্ববাসীর নিকট লুকিয়ে রাখার জন্যে সাংবাদিকতার উপর অনেক কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। দৈনিক জনতা, দৈনিক ইত্তফাক, দৈনিক সংবাদের মতো পত্রিকাকে পাকিস্তানী শাসকদের প্রত্যক্ষ মদদে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সাড়ে সাত কোটি বাঙালির প্রাণের যে আন্দোলন সে আন্দোলনকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার জন্যে বেশ কিছু হলুদ সাংবাদিককে তারা ক্রিয়াশীল রেখেছিল। যারা সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেমিক সাংবাদিক তাদের অনেক নিগ্রহ ও হত্যার শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতার পথ কোনোভাবে রুদ্ধ করা যায় না। আমরা দেখেছি, দেশের মাটিতে না হলেও, বিদেশের মাটিতে গড়ে উঠেছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। মহান মুক্তিযুদ্ধে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ভূমিকা বর্তমান সময়ের সাংবাদিকদের জানার দরকার আছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোটার্স ইউনিটির ১ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আজ (১৮ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে বিকাল ৪টায় আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধে সাংবাদিকদের ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, ২৫ মার্চ কালো রাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতারের পর তাঁর অবর্তমানে কলম হাতে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তাঁরই হাতে তৈরি সাংবাদিকরা।

অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাংবাদিকরা লেখনীর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে মুক্তিযুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পেরেছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে পেরেছিলেন।সম্মানিত অতিথি হিসেবে আলোচনাসভায় বক্তব্য প্রদান করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম আব্দুল লতিফ। এছাড়াও দৈনিক ইত্তেফাকের ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি বিমল সাহা বক্তব্য রাখেন।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদেও ডিন প্রফেসর ড. নাসিম বানু, সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, ছাত্র-উপদেষ্টা ও প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।আলোচনাসভা স ালনায় ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোটার্স ইউনিটির সদস্য ফারহানা নওশীন তিতলী ও মারিয়া জামান এশা।

এর আগে, বেলা ৩টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোটার্স ইউনিটি অফিস থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। আনন্দ শোভাযাত্রার পর ১ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে কেক কাটা হয়।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে