৫০ হাজার টন পরিবহন ক্ষমতার জাহাজে আমদানি করা হচ্ছে ২০ হাজার টন কয়লা। এতে প্রতি টনে বাড়তি গুণতে হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার টাকা। পটুয়াখালীর নদীগুলোর নাব্যতা সংকটে, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ বিনিয়োগের কোম্পানি-বিসিপিসিএল। এতে ভেস্তে যেতে পারে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রচেষ্টা।
দ্রুত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করার দৃষ্টান্ত হতে পারে পায়রার এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র। নির্মাতারা জানিয়েছেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে আসবে নতুন বছরের শুরুতে।আমদানি করা কয়লা দিয়ে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ। শুরুতে একটি ইউনিটের জন্য মাসে কয়লা লাগবে প্রায় দুই লাখ টন।পটুয়াখালীর নদীগুলোর নাব্যতা কম থাকায় এখানে কয়লা আমদানি নিয়ে শঙ্কা দীর্ঘদিনের। তবুও এরইমধ্যে ভেড়ানো হয়েছে দু’টো জাহাজ। কিন্তু এসব জাহাজে সক্ষমতার তিন ভাগের এক ভাগ কয়লা আমদানি করতে পারায় তা বিদ্যুতের উৎপাদন খরচে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়টি স্বীকার করে প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, কয়লা পরিবহনে খরচ কমানো না গেলে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে না বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শাহ আব্দুল মাওলা বলেন, ডেফিনিটলি এটা আমাদের ডিরেক্ট ইফেক্ট ফেলছে, কস্ট বেড়ে যাচ্ছে। আমি যত বেশি নাব্যতা পাবো তত বেশি কয়লা আনতে পারবো আমার রেট কম আসবে কয়লা পরিবহনে। এর ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমে আসবে।
যদিও বিদ্যুৎ সচিব আহমদ কায়কাউসের দাবি, এই সংকট সাময়িক।বিদ্যুৎ সচিব আহমদ কায়কাউস আরো বলেন, পায়রা বন্দরের কাজ চলছে। তারা ড্রেজিংয়ের কাজ করবে। আগামী এক থেকে দেড় বছর পর নাব্যতার সমস্যা থাকবে না আশা করছি।এদিকে পরিবহন খরচ বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে অযৌক্তিক বলছেন বিশ্লেষকেরা।ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, এভাবেই বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় দ্রুত বাড়ছে, অসহনীয়ভাবে বাড়ছে। বেশি ধারণ ক্ষমতার জাহাজে কম কয়লা এনে যে উৎপাদন ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে তার ব্যয়ভার ভোক্তারা নিবে না।
বঙ্গোপসাগর থেকে রামনাবাদ চ্যানেলে পায়রা বন্দরের অবস্থান। চ্যানেলটির গভীরতা ঠিক রাখতে নদী খননের দায়িত্ব পায়রা বন্দরের। তবে কাজে ধীরগতির জন্য আপাতত নিজেদের টাকায় খননের কাজ করছে বিসিপিসিএল।
তথ্যঃ ইন্ডিপেনডেন্ট
অনলাইন নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ




























