জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিক্ষোভ করেছে বিশ্বের ১৫০টি দেশের কয়েক লাখ শিক্ষার্থী। জার্মানির ৫ শতাধিক শহরে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ রাজ্যের প্রত্যেকটিতেই বিক্ষোভ হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, শুধু নিউ-ইয়র্কেই আড়াই লাখ মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। আগামী সপ্তাহে জলবায়ু সম্মেলন চলাকালেও বিক্ষোভের কথা রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি থেকে বিশ্বকে বাঁচানোর তাগিদে ১৬ বছরের গ্রেটা থারবার্গ একাই যে প্রতিবাদ শুরু করেন, তা এখন তারুণ্যের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। শুক্রবার বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভে যোগ দেয় প্রায় চল্লিশ লাখ মানুষ, যার অধিকাংশই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী।ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার নামে পরিচিত এ আন্দোলনের যৌক্তিকতা এভাবেই ব্যাখা করলেন গ্রেটা।

সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থারবার্গ বলেন, ভবিষ্যত জীবনের জন্য পড়ালেখা করে কি হবে? যেখানে লাভের আসায় আমাদের ভবিষ্যতই কেড়ে নেয়া হচ্ছে। কেউ কেউ উপদেশ দেন পড়ালেখা করে বিজ্ঞানী কিংবা রাজনীতিবিদ হয়ে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখতে। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যাবে। যা করার এখনই করতে হবে আমাদের।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ রাজ্যের প্রত্যেকটিতেই বিক্ষোভ হয়েছে। জাতিসংঘের আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানায় বিক্ষোভকারীরা।অস্ট্রেলিয়ায় বিক্ষোভ করেন সাড়ে তিন লাখ মানুষ, শিক্ষার্থীদের সাথে যোগ দেন কর্মজীবীরাও। জার্মানির ৫ শতাধিক শহরে রাস্তায় নামে পরিবেশবাদী আন্দোলনকারীরা।

ইউরোপ আমেরিকার পাশাপাশি, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডের মতো এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও দেখা গেছে এই আন্দোলন ।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হুমকির মুখে থাকা কিরিবাতি, সলোমন দ্বীপ এবং ভানুয়াতুর মত দেশেও বিক্ষোভ হয়েছে। আর অ্যান্টার্কটিকায় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন একদল বিজ্ঞানী।জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবিতে এগিয়ে এসেছে, ব্রাজিলের শিক্ষার্থীরাও। ক’দিন আগেই ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়ে ব্রাজিলের আমাজন।

প্রতিদিনই জলবায়ু পরিবর্তনের মাশুল দিচ্ছে বিশ্ব। কোথাও তীব্র খরা, দাবদাহ, দাবানল, কোথাও আবার ভারি বৃষ্টি, পাহাড় ধস, ঘূর্ণিঝড় কিংবা বন্যায় নাকাল জনজীবন। আশঙ্কা জনকভাবে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চ্তা, গলে যাচ্ছে দুই মেরুর বরফ।তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঠেকাতে, ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা ২ ডিগ্রির নিচে রাখার বিষয়ে সম্মত হয় বিশ্বনেতৃবৃন্দ। কিন্তু ৪ বছরেও এ নিয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ আসেনি। এর জন্য উন্নত দেশগুলোর উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন বিশ্লেষকেরা।

তথ্যঃ ইন্ডিপেন্ডেন্ট
অনলাইন নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে