সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কাশ্মিরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা (স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য) বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের কেন্দ্র সরকার। সোমবার (০৫ আগস্ট) সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর, রাজ্যসভায় এই ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ। বিজেপি জোটের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা।
সোমবার (০৫ আগস্ট) সকালে রাজ্যসভার অধিবেশনে শুরু থেকেই সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে দেয়ার ঘোষণা দেন অমিত শাহ। সঙ্গে সঙ্গে বিরোধীরা তুমুল হই হট্টগোল করেন। কয়েক মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হয়। ফের অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির নির্দেশনামা পড়ে শোনান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহা।একইসাথে জম্মু-কাশ্মিরকে পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন থেকে লাদাখ ও জন্মু-কাশ্মির আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে। দু’টি জায়গাতেই দু’জন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করা হবে।
ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫ ধারাকে কাশ্মিরের সাংবিধানিক রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখন এই দুই ধারা বাতিল করে কাশ্মিরকে ভেঙে দুই টুকরো করার ঘোষণা দিয়েছেন অমিত শাহ। কাশ্মির ভেঙে নতুন দুই রাজ্য হবে জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখ।এর আগে সোমবার অমিত শাহ রাজ্যসভায় কাশ্মিরের সাংবিধানিক মর্যাদা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার আগেই অঞ্চলটিতে ব্যাপক সৈন্য সমাবেশ ঘটায় ভারত।নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির কথা বলে গত সপ্তাহে কাশ্মিরে আধা সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত ৩৫ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর এসব বাড়তি সদস্যদের রাজ্যের রাজধানী শ্রীনগর এবং কাশ্মির উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে এমনকি গ্রামাঞ্চলেও মোতায়েন করা হয়েছে।
ইতোমধ্যেই কাশ্মিরের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট। নিষিদ্ধ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ। রোববার রাত থেকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে গৃহবন্দি করে রেখেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।এছাড়াও নিজ বাড়িতে নজরদারির মধ্যে রয়েছেন সেখানকার আরেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ ও পিপলস কনফারেন্স পার্টির চেয়ারম্যান সাজাদ লোন। সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্পর্শকাতর এলাকায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রোববার মধ্যরাত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে শ্রীনগর জেলায়।কাশ্মিরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও স্পর্শকাতর এলাকায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকিস্তানের সঙ্গে সহিংসতা বৃদ্ধি ও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বহু স্থানে বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল ইন্টারনেট। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেখানকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ।
কয়েকটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানকে ছাত্রাবাস খালি করে ফেলারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাশ্মির পুলিশের দাবি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এদিন রাজ্য সরকারের এক নির্দেশনায় বলা হয় যেকোনও ধরণের সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ থাকবে। তবে কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে কারফিউ জারির কথা বলা হলেও তা জারি করা হয়নি বলে জানানো হয় ওই নির্দেশনায়। তবে রবিবার মধ্যরাত থেকে শ্রীনগর জেলায় ১৪৪ ধারা কার্যকরের কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
বৈশাখী থেকে



























