ইসলামী বিশ্ববিদ্যায়ের লেকের পাশে প্রায় ১০ বিঘা জমির উপর বোটানিক্যাল গার্ডেন তৈরীর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ গার্ডেনে দুর্লভ এবং বিলুপ্ত প্রায় এমন ১৪০ প্রজাতির ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপন করা হবে। আজ শনিবার দুপুরে ফিতাকেটে এবং চেরি ফল গাছের চারা রোপনের মধ্যদিয়ে এ বোটানিক্যাল গার্ডেনের উদ্বোধন করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী)।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভাইস চ্যান্সেলর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, আমার অনুপ্রেরণার উৎস হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। কারন জননেত্রী শেখ হাসিনা মাত্র ৫ ঘন্টা ঘুমান এবং বাঁকী সময়টা দেশ নিয়ে ভাবেন। তিনি বলেন, আমরা বিস্ময় প্রকাশ করি যে, এমন একজন মানুষের সহযাত্রী আমরা কেন হবো না। সুতরাং এটাই আমার প্রেরণার প্রধান উৎস। তিনি বলেন, আমরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এক এবং ঐক্যবদ্ধভাবে নানামুখি উন্নয়নমূলক কাজ করে চলেছি। এখানে অবকাঠামো উন্নয়নের বিপ্লব সাধিত হয়েছে। তিনি বলেন, এ ক্যাম্পাসকে আমরা সবুজ ক্যাম্পাকে পরিণত করতে চাই। এজন্য আমরা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

ড. রাশিদ আসকারী বলেন, আমরা চিন্তা করেছি আমাদের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে ধরে রাখতে হলে নয়নাভিরাম গ্রীন ক্যাম্পাস তৈরী করতে হবে। সেই প্রেরণা থেকে আমরা লেক, বোটানিক্যাল গার্ডেন তৈরীসহ বহুমুখি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে এ বিশ্বকে রক্ষার জন্য প্রতি বছর প্রতিটি মানুষকে অন্ততঃ ১টি করে গাছ লাগাতে হবে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের জীববৈচিত্র রক্ষা করতে চাই। এ গার্ডেনের মাধ্যমে আমাদের নব প্রজন্মরা বিভিন্ন গাছের সাথে পরিচিত হতে পারবে। ড. রাশিদ আসকারী বলেন, এ গার্ডেনটি শুধু সৌন্দর্যবর্ধন নয় বরং এটি আমাদের কিছু বিভাগের গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ জাকারিয়া রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যে ভাবে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন, তার সাথে তাল মিলিয়ে আমরাও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের এই বোটানিক্যাল গার্ডেন কেবল সৌন্দর্যবর্ধনের কাজই করবে না। বরং আমাদের বিজ্ঞানের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণার কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে যেমন দীর্ঘমেয়দী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ঠিক তাঁকে অনুসরণ করেই আমরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, আমাদের প্রশাসনিক দায়িত্বের মেয়াদ আর মাত্র ১ বছর থাকলেও আমাদের পরবর্তী প্রজন্মরা স্বচ্ছন্দে যেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কর্মকান্ড শেষ করতে পারে সে লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যে নিয়েই আমরা দীর্ঘ মেয়াদী কাজ করে চলেছি। তারই প্রেক্ষাপটে আজকের এই বোটানিক্যাল গার্ডেন তৈরীর স্বপ্ন আমরা দেখেছি।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির সদস্য-সচিব ও প্রধান প্রকৌশলী (ভার:) আলিমুজ্জামান টুটুলের স ালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নাসিম বানু, ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন, প্রক্টর (ভার:) ড. মোঃ আনিছুর রহমান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ এবং সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
উদ্বোধনী আলোচনা শেষে ফিতা কাটেন এবং চেরি ফল গাছের চারা রোপন করেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির সদস্য-সচিব ও প্রধান প্রকৌশলী (ভার:) আলিমুজ্জামান টুটুল তাঁর “গ্রীন চাইন্ড” সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে ১ লাখ টাকার বিভিন্ন গাছের চারা রোপনের ঘোষণা দেন।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে