ঢাকা, বৃহস্পতিবারঃ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘রাজনৈতিকভাবে পরাজিত অপশক্তি নানা ধরণের গুজব রটিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন, প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’
‘এ ঘৃণ্য গুজব রটনাকারী অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের শতকরা সত্তর ভাগের বেশিই হচ্ছে বিএনপি-জামাত গোষ্ঠির, আর ত্রিশ ভাগ গড্ডালিকায় গা ভাসিয়েছে এবং গুজবের প্রথম যে পোস্ট বিদেশ থেকে দেয়া হয়, তার পরিচয়ও উদঘাটিত হয়েছে’, জানান মন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ভাসানী’র ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী একথা বলেন। ন্যাপ ভাসানী চেয়ারম্যান এম এ ভাসানী’র সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক আকতার হোসেন, সাবেক এমপি নাজমুল হক প্রধান প্রমুখ সভায় বক্তব্য রাখেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বিম্ময়কর উন্নয়ন, বিশ্বব্যাপী প্রশংসা এবং বিশ্বব্যাংকে হতবাক করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে একটি মহল প্রচন্ডভাবে হতাশ। তারা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়ে, জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়ে নানা ধরণের হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং নানা ধরণের অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে কিছুদিন আগে সরকারের অনুমোদন নিয়ে না কি পদ্মা সেতুতে শিশু বলি দিতে হবে, তাও একটা দুটা নয় এক লক্ষ শিশু -এরকম একটি গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রটিয়ে দেয়া হয়েছে।’
‘সেই সূত্র ধরেই দেশে ছেলে ধরার আতংক সৃষ্টি হয়েছিল’ উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কিছু আতংকিত মানুষ আর কিছু দু®কৃতিকারী বিভিন্ন স্থানে নিরীহ মানুষের ওপর হামলা পরিচালনা করেছে, কয়েকজনকে হত্যা করেছে। এ সবগুলোই হত্যাকান্ড। জড়িত সবাই হত্যা মামলার আসামী। তাদের বিরুদ্ধে সরকার অত্যন্ত কঠোর এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।’
‘যেখানে গুজব সেখানেই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ’
গুজব রটনাকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যারা দেশের উন্নয়নের পক্ষে, যারা প্রগতির পক্ষে, যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, তাদেরকে বলবো, এই ধরণের গুজব রটনা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অপচেষ্টা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এর পেছনে নানা ষড়যন্ত্র রয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমস্ত পর্যায়ের নেতাকর্মী, সহযোগী সংগঠন ও মোস্তাক ভাসানীর দল থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব দলকে অনুরোধ জানাই এটি সুতরাং এদেরকে কঠোর হস্তে প্রতিহত করতে হবে। যারা যেখানে গুজব রটাবে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানাই অনুরোধ জানাই।’
‘বিএনপি গত কয়েকদিন থেকে বলছে যে আমরা নাকি দেশটাকে অস্থিতিশীল করছি’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকারে থাকি সরকারে থেকে নাকি দেশটাকে অস্থিতিশীল করছি, এ ধরণের হাস্যসকর কথা বিএনপি নেতারা কিভাবে বলেন! অর্থাৎ তারা যে একথা বলার মধ্য দিয়ে তারা এটি প্রমাণ করেছেন এটার পিছনে তাদের ইন্ধন আছে। সুতরাং আমি আবারও বলবো এটা প্রতিহত করতে হবে।’
‘মাওলানা ভাসানী ক্ষমতার জন্য নয়, জনতার জন্য রাজনীতি করেছেন’
তথ্যমন্ত্রী এসময় ৬২ বছর পার হয়ে ৬৩তম বর্ষে পদার্পণ করায় ন্যাপ ভাসানীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘মাওলানা ভাসানী ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন নাই। মাওলানা ভাসানী জনতার জন্য রাজনীতি করেছেন। মাওলানা ভাসানী যদি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করতেন বা ক্ষমতার জন্য যদি তার তীব্র বাসনা থাকতো তাহলে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন বা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যেতে পারতেন। কিন্তু মাওলানা ভাসানী সেই পথে যাননি। রাজনীতিকে ব্রত হিসেবে নিয়েছেন।’
‘কিন্তু মাওলানা ভাসানীর দলের অনেকেই মাওলানা ভাসানীকে ছেড়ে চলে গেছেন, তার ইন্তেকালের পর যারা মাওলানা ভাসানীর দল করতেন তারা ক্ষমতার লিপ্সাকে ত্যাগ করতে পারেননি’ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘আজকের বিএনপির বড় বড় অনেক নেতা তারা মাওলানা ভাসানীর দল করতেন। তারা আদর্শ থেকে বিচ্যূত হয়ে জিয়াউর রহমানের রাজনীতির হাতের পণ্য হয়ে বিক্রি হয়ে গেছেন। পরবর্তীতে এরশাদ যে রাজনীতির হাট বসিয়েছিল সেই হাটেও মাওলানা ভাসানীর দলের অনেক নেতা বিক্রি হয়েছেন। কিন্তু মোস্তাক বিক্রি হন নাই। সেই জন্য আমি মোস্তাক সাহেবকে অভিনন্দন জানাই, হাঁটি হাঁটি পা পা করে প্রচন্ড প্রতিকূলতার মধ্যে, প্রতিবন্ধকতার মধ্যে তিনি মাওলানা ভাসানীর প্রতীকটিকে জাগিয়ে রেখেছেন, সেই জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।’



























