স্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোসহ ৩ শহরে আলাদা ৮টি বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় বিদেশি নাগরিকসহ প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ২০০জন। আহত হয়েছেন কয়েকশ’ মানুষ।

রোববার সকালে, দেশটির রাজধানী কলম্বো, নেগোম্বো প্রদেশ ও বাত্তিকালওয়ায় তিনটি গির্জায় বোমা বিস্ফোরণ হয়। একই সময়ে কলম্বোর তিনটি পাঁচ তারকা হোটেলেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় প্রাণ হারায় অন্তত ১৩৮ জন। পরে দুপুরে, কলম্বোর দেহিওয়ালা জেলায় একটি চিড়িয়াখানার পাশে আরো একটি হোটেলে বিস্ফোরণে ২ পুলিশ সদস্য নিহত হয়। এছাড়া দেমাতাগোদা জেলার একটি আবাসিক এলাকায় অষ্টম বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

রোববার খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডের প্রার্থনার জন্য খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা গির্জায় জড়ো হতে থাকেন। আর এর মাঝেই পৃথক জায়গায় এসব হামলা চালানো হয়।হামলার পর নেগোম্বো প্রদেশের সেন্ট সেবাস্টিন গির্জার ফেসবুক পেজে বলা হয়, আমাদের গির্জায় বোমা হামলা হয়েছে। এখানে যদি আপনার পরিবারের সদস্য থাকেন তাহলে আসুন, তাদের পাশে দাঁড়ান।

যেসব স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে সেগুলো হলো, কলম্বোর কচ্চিকাদে এলাকার সেন্ট অ্যান্থোনী শ্রাইন গির্জা, নেগোম্বো প্রদেশের সেন্ট সেবাস্টিন গির্জা সিকন গির্জা এবং পাঁচ তারকা হোটেল সাংগ্রিলা, কিংসবারি, সিনামন গ্রান্ড, ট্রপিকাল ইন। এছাড়া দেমাতাগোদার মাহাউইলা উদয়না রোডের একটি আবাসিক এলাকায় অষ্টম বিস্ফোরণ হয়।

এদিকে, এই হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন শ্রীলংকার প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুয়ান বিজয়বর্ধনে। কলম্বো পুলিশ বলছে, কারা এ বোমা হামলা করেছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। হামলার পর কলম্বোয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত জারি করা হয়েছে কারফিউ। এছাড়া শ্রীলংকার সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

অন্যদিকে, এই হামলার ঘটনায় শোক জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ বিশ্ব নেতারা।

অনলাইন নিউজ ডেস্ক ।।  বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে