তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে স্বর্ণযুগ আনার জন্য সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে দূরদৃষ্টি নিয়ে ঢাকায় চলচ্চিত্র শিল্পের গোড়াপত্তন করেছিলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই চলচ্চিত্রের বিকাশে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সারাবিশ্বে সমাদৃত হবে।’

৩ এপ্রিল জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে তথ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী একথা বলেন। জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন কমিটি ২০১৯ এর আহ্বায়ক সৈয়দ হাসান ইমামের সভাপতিত্বে তথ্যসচিব আবদুল মালেক বিশেষ অতিথি হিসেবে এবং চিত্রনায়ক আলমগীর, ইলিয়াস কাঞ্চন, চিত্রনায়িকা রোজিনা প্রমূখ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সভায় বক্তব্য রাখেন। এর আগে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির পায়রা ও একগুচ্ছ বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী। ড. হাছান তার বক্তৃতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘১৯৫৭ সালের এই দিনে তদানীন্তন প্রাদেশিক পরিষদের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল উত্থাপনের মাধ্যমে ঢাকায় চলচ্চিত্র শিল্পের দিগন্ত উন্মোচন করেন। তাঁর প্রতি এ মঞ্চ থেকে আমরা জানাই গভীর কৃতজ্ঞতা।’

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘এদেশে বহু কালজয়ী, জীবনধর্মী চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। স্বাধীনতার পূর্বেও সুকৌশলে নির্মিত বহু চলচ্চিত্র সূক্ষ্মভাবে মানুষের মননে স্বাধিকারের চেতনা প্রোথিত করেছে। মুক্তিযোদ্ধারা যেমন স্বাধীনতার ব্রতে জীবন বাজি রেখে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে লড়াই করেছে তেমনি এদেশের চলচ্চিত্রও নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংগ্রাম সম্পর্কে জানতে সাহায্য করেছে।’‘সমগ্র বিশ্বে চলচ্চিত্রের কোনো বিকল্প নেই’ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘টেলিভিশন, ইউটিউব বা আইম্যাক্স কোনোটিই চলচ্চিত্রের বিকল্প নয়, চলচ্চিত্রের বিকল্প চলচ্চিত্রই। এই চলচ্চিত্র বিকাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্মাণ করেছেন বিশ্বমানের ফিল্ম আর্কাইভ, ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এফডিসির আধুনিকায়ন চলছে, ৩২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল সুবিধাসহ এফডিসির নতুন সমন্বিত ভবন। ২০২১ সালে ঢাকায় বিশ্ব ফিল্ম আর্কাইভ সম্মেলনের আগেই এফডিসি নতুন রূপে সাজবে।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি সৈয়দ হাসান ইমাম চলচ্চিত্র অঙ্গণের সকলকে দিনটি আনন্দের সাথে উদযাপনের আহ্বান জানান এবং তথ্যসচিব আবদুল মালেক দেশ ও চলচ্চিত্রের স্বার্থে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার ব্রতে উজ্জীবিত হতে বলেন।তথ্যমন্ত্রী এসময় শিল্পী ও অতিথিদের সাথে নিয়ে দিবসটি উপলক্ষে বিএফডিসি প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন, চলচ্চিত্রের ইতিহাসভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন ও বর্ণাঢ্য র্যালীতে নেতৃত্ব দেন।
চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার সঞ্চালিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক লক্ষন চন্দ্র দেবনাথ। দিবসটি উপলক্ষে এফডিসিতে দু’দিনব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ




























