নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে হাজির করা হয়েছে। মামলায় চার্জ গঠন শুনানির জন্য আগামী ১ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছে।
রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান আজ এ আদেশ দেন।
কারা কর্তৃপক্ষ আজ দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে হুইল চেয়ারে করে খালেদা জিয়াকে কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত থেকে অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে হাজির করে। শুনানি শেষে খালেদা জিয়াকে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন পেশ করেন।মামলার আসামী সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ চিকিৎসার জন্য বিদেশে রয়েছেন বলে তার আইনজীবী আদালতকে অবহিত করেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলামের পক্ষে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে গত ৩ মার্চ চার্জ শুনানি শেষ করেন। খালেদা জিয়া ছাড়া সব আসামি পক্ষে চার্জ শুনানি শেষ হয়েছে। মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছর সাজা হওয়ার পর খালেদা জিয়াকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত বছর ৬ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে নেয়া হয়। এরমধ্যে আবার চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত বছর ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদন্ড দেয়া হয় এবং ৩০ অক্টোবর জিয়া অরফানেজ মামলায় আপিলে তার সাজা বৃদ্ধি করে ১০ বছরের জেল দেয়া হয়।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে এক মাস চিকিৎসা দেয়ার পর এক মাস চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়াকে গতবছর ৮ নভেম্বর ফিরিয়ে নেয়া হয় পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন- মওদুদ আহমদ, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
এর আগে আসামিপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি কয়েক দফা পিছিঁয়ে দেয়া হয়। নাইকো সংক্রান্ত এ দুর্নীতি মামলায় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান বেগম খালেদা জিয়া।
তথ্যঃ বাসস
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














