রাজধানীর শাহজাহানপুরের পাশে শহীদবাগ মসজিদ গলি থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, পুলিশ হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেপ্তার করে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। এর আগে গত রোববার (২৯ অক্টোবর) সকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তার গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকার পতনের একদফা দাবি আদায়ে ওইদিন সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে বিএনপি। পরে গত শনিবার প্রধান বিচারপতির বাসায় হামলার মামলায় তাকে গ্রপ্তার দেখিয়ে গত রোববার রাতে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ হত্যার মামলায় রাজধানীর শাহজাহানপুরের পাশে শহীদবাগ মসজিদ গলি থেকে গ্রেপ্তার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। বুধবার (১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হবে। এর আগে গত ২৯ অক্টোবর রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মির্জা আব্বাসকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। মামলা ৪৯ জনের নাম উল্লেখসহ ৭০০/৮০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নয়াপল্টনে সমাবেশ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ওরফে আব্বাসের নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় আসামিরা বেআইনিভাবে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে স্লোগান দেয়। তারা জনমনে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করে শাহজাহানপুর থানাধীন এলাকায় বিভিন্ন প্রকার নাশকতামূলক ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা এবং হত্যার উদ্দেশ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে তারা। এসময় আসামিরা অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এদিকে সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর মঞ্জুরুল ইমামের আদালত তার জামিন বাতিল করে এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০১৯ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ মামলা করে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে