উবার, পাঠাও, বাহন, সহজ ইত্যাদি সকল রাইড শেয়ারিং অ্যাপের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কিছু ব্যাপারে জানানো অতীব জরুরী বলে মনে করছি। কোনো সন্দেহ নেই, আপনাদের সার্ভিসগুলো আমাদের দেশের জীবনযাত্রার গতি বাড়াতে সাহায্য করেছে। গনপরিবহন যখন বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি, ঠিক তখনি অ্যাপস ভিত্তিক সেবাগুলো ভুক্তভোগী সাধারন যাত্রীদের স্বস্তির সন্ধান দেই, অভূতপূর্ব সাড়া মেলে অ্যাপস ভিত্তিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে, ছোটোখাটো কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা বাদ দিলে সার্ভিসগুলো জনগন অন্ধভাবে কাছে টেনে নিয়েছে সংকোচহীনভাবে। করতালি দিয়ে সাধুবাদ জানাই কিন্তু সম্প্রতি কিছু ব্যাপার নজরে এসেছে, যেগুলো দৃষ্টির অগোচরে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইদানীং দেখা যাচ্ছে…

১. বাইকারের অ্যাপে দেয়া নাম্বারের সাথে কল আসা নাম্বার মিলছে না! একাধিক নাম্বার থাকলে তা অবশ্যই ডাটাবেইজে আপডেটেড থাকাতে হবে নয়তো অপরিচিত নাম্বার থেকে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নেবে?
২. অ্যাপের রেজিস্টার করা বাইকের নাম্বারের সাথে বাইকারের বাইক নাম্বার মিলছে না। সংখ্যায় এই সমস্যা কম হলেও আল্লাহ না করুক যদি চোরাই বাইক হয়, তাহলে কিন্তু বড় ধরণের বিপদ হয়ে যেতে পারে!
৩. ৬০-৭০% বাইকারই এটাকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। অনেকে এই সার্ভিসের জন্য ডেডিকেটেড বাইক কিনেছেন। কিন্তু একটা এক্সট্রা হেলমেট কেনা কি একটু বেশি খরচ? প্রতিষ্ঠানগুলো তো পারে বোনাস একবার না দিয়ে একটা করে এক্সট্রা হেলমেট কিনে দিতে? হেলমেট ছাড়া বেআইনি ভাবে রাইডিং শেয়ার নাহ করার জন্য অ্যাপস ভিত্তিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবস্থা নিতে হবে
৪. রাস্তায় বিভিন্ন কারণে বাইকারের জন্য থামতে হয়। তেল নেয়া, নামাজ পড়ার জন্য দাঁড়ালে সেটা ইস্যু না। কিন্তু কাগজপত্রে ঝামেলা থাকলে পুলিশি ইস্যুতে অনেক সময় চলে যায়। কিন্তু এদিকে অ্যাপের ট্যারিফ চলতেই থাকে। এই ক্ষেত্রে সাময়িক ‘পজ’ অপশন রাখা যায় কি?
৫. যারা বাইকার, দিনে অনেক ঘুরতে হয়, তাই তারা দ্রুত বাইক চালান। কিন্তু আপনার বোঝা উচিত যে আপনার পেছনে বসা মানুষটার মাথায় হয়তো হেলমেট দেননি আপনি। এছাড়াও তিনি হয়তো বাইকে বসায় এক্সপার্ট নাও হতে পারেন। হয়তো আপনার পেছনে বসা মানুষটার টাকায় একটা সংসার চলে, হয়তো তার একটি ছোট পরিবারের পাশাপাশি একটি সন্তান আছে। এমতাবস্থায় দ্রুত চালিয়ে গন্তব্যে যাবার জন্য তোড়জোড় করা কতটা যৌক্তিক? তার উপর মারাত্মক দুর্ঘটনাপ্রবণ ড্রাইভিং কিন্তু খুবই ভয়ানক! হয়তো আজ বেঁচে যাচ্ছেন, আপনাকে সাইড দিতে গিয়েও অনেক ক্ষেত্রে বড় গাড়ী বিপদে পড়তে পারে!
৬. খুচরা টাকা ব্যাপারটা একটু অস্বাভাবিক। সবার কাছেই ৫০-১০০ টাকা ভাংতি থাকা উচিত। এর পাশাপাশি, মোবাইল পেমেন্ট রাখার জোর দাবী জানাচ্ছি। যেমন, প্রতি বাইকারের জন্য আপনাদের সেন্ট্রাল বিকাশ একাউন্টের পেমেন্ট একাউন্টের কাউন্টার নাম্বারে একেকেজন একেকজনের রেজিস্ট্রেশন আইডি নাম্বার দিলেই হয়ে যায়!
৭. নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও ভাবতে হবে। চলন্ত বাইকে বিপদে পড়ে গেলে নামার অপশন থাকে না। তাই এই দিকটায় আরো নজর দিতে হবে।
অ্যাপস ভিত্তিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উপরের বিষয়গুলোকে বিবেচনা করে কিছু নিয়মের আওতায় আনার জন্য অনেক ভুক্তভোগী অনুরোধ করেছেন কারন আপনাদের সুনাম বাড়া মানে দেশের নাগরিকদের সন্তুষ্টি এবং একই সাথে দেশের সুনাম বৃদ্ধি পাওয়া।
নিউজ ডেস্ক, বিডি টাইম্স নিউজ














