যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি। বাংলাদেশের জন্য এককভাবে সর্ববৃহৎ রপ্তানি বাজার। বিপরীতে বাংলাদেশ উঠতি অর্থনীতি হিসেবে মার্কিনিদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে বাংলাদেশিদের ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক দিক দিয়ে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তথ্য-উপাত্তে তা আলোচনা করা হলো।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য
২০২১-২২ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। বিপরীতে এদেশ থেকে ৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলারের পণ্যদ্রব্য মার্কিন মুলুকে রপ্তানি করা হয়েছে। এতে উদ্বৃত্ত থেকেছে ৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এক্ষেত্রে স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ।
তৈরি পোশাক
বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের প্রায় ৮৭ শতাংশই আমেরিকার বাজারে যায়। ২০২২-১৩ অর্থবছরে সেখানে ৮ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে যা ছিল ৯ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে কমেছে ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ আছে।
ওটেক্সার তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) ২০২২ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৯ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিগত ৫ বছরে দেশটিতে এই হার বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। গত বছর সেখানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এটাও আমাদের জন্য সুখের বার্তা।
রেমিট্যান্স
২০২২-২৩ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশে এসেছে। এদেশে মার্কিনিদের পুঞ্জিভূত বিনিয়োগ ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। সবমিলিয়ে বছর ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এক্ষেত্রে সেখানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছি আমরা।
বিনিয়োগ খাত
বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্য-প্রযুক্তি, লজিস্টিকস, খাদ্যপণ্য ও ওষুধ খাতে বিনিয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র। সবমিলিয়ে এদেশে দেশটির বিনিয়োগের অংকটা বড়।
প্রধান আমদানি পণ্য
যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিকিৎসা সামগ্রী, তুলা, ইস্পাত-লোহা, বিদ্যুৎকেন্দ্র সামগ্রী ও ওষুধ আমদানি করে বাংলাদেশ। আমরা দেশটি থেকে তেল-গ্যাস কিনি। নির্মাণ সামগ্রীও ক্রয় করা হয়। সর্বোপরি, ব্যাপক পরিমাণে ওষুধ আমদানি করা হয়। ফলে অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল আমরা।



























