চীন আন্তর্জাতিক পরিষেবা বাণিজ্য মেলা (সিআইএফটিআইএস) শনিবার বেইজিংয়ে শুরু হয়েছে। এতে দর্শকরা কী কী খুঁজে পাবেন? উত্তর হচ্ছে: বিশ্বের সবচেয়ে নতুন প্রযুক্তি ও পরিষেবা বাণিজ্যের সুযোগসুবিধা। বিশ্বের অর্থনীতি উন্মুক্ত হলে উন্নত হবে, নইলে হ্রাস পাবে’। এদিন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং মেলার বৈশ্বিক পরিষেবা বাণিজ্য শীর্ষসম্মেলনে দেওয়া এক ভিডিও-ভাষণে বলেন, বৈশ্বিক পরিষেবা বাণিজ্য ও পরিষেবা শিল্পে সহযোগিতা জোরদার ‘অর্থনেতিক বিশ্বায়ন এগিয়ে নেওয়া, বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রাণশক্তি পুনরুদ্ধার, ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাণশক্তি যোগাবে।

প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ‘উন্মুক্তকরণ, সহযোগিতা, উদ্ভাবন, ও ভাগাভাগি’—এই চারটি টার্মের ওপর জোর দেন। তিনি জানান, উচ্চ মানের উন্মুক্তকরণ এগিয়ে নিতে এবং বিশ্বের সাথে উন্মুক্তকরণ ও উন্নয়নের সুফল ভাগাভাগি করতে চীন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, পরিষেবা বাণিজ্য বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। এজন্য এবারের চীন আন্তর্জাতিক পরিষেবা বাণিজ্য মেলায় মোট ২৪০০টিরও বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সরাসরি অংশগ্রহণ করছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপাত্ত অনুসারে, ২০২২ সালে চীনের পরিষেবা খাতে আমদানি ও রপ্তানির মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, যা এক্ষেত্রে টানা ৯ বছর ধরে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রেখেছে চীনকে। বিদেশের শিল্পপ্রতিঠানগুলো আগ্রহের সাথে মেলাতে অংশগ্রহণ করছে, কারণ তারা চীনের বড় আকারের বাজার ও নতুন সুযোগ দেখেছে। চলতি বছর হচ্ছে চীনের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ নীতি কার্যকরের ৪৫তম বার্ষিকী। চীন উচ্চ মানের উন্মুক্তকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হিসেবে, আন্তর্জাতিক পরিষেবা বাণিজ্য মেলাকে দেখছে। বিশ্বের পরিষেবা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের অবদান অনস্বীকার্য।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সম্প্রতি বলেন, চীনের অর্থনীতির বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদানের হার এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে। বস্তুত, চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকায়নের অব্যাহত গতির সাথে তাল মিলিয়ে চীন উচ্চ মানের উন্মুক্তকরণও নিশ্চিত করেছে। এ প্রক্রিয়ায় চীন অবশ্যই বিভিন্ন পরিষেবার মান আরও উন্নত করবে, যা বিশ্ববাসীর জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে