বান্দারবানের রুমায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সন্ত্রাসীদের পুঁতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণে এক সেনাসদস্য নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। শুক্রবার ছিলোপি পাড়ায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণের সময় এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর সৈনিক মোন্নাফ হোসেন রাজু নিহত হন। এ সময় মো. রেজাউল নামে আরেক সৈনিক গুরুতর আহত হন। এ নিয়ে চলতি বছর কেএনএফ সন্ত্রাসীদের হামলায় ৫জন সেনাসদস্য নিহতের ঘটনা ঘটলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সেনাবাহিনীর টহল দল ছিলোপি পাড়া টেম্পরারি অপারেশনাল বেস থেকে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণের জন্য পাইনুম পাড়া এলাকায় যাওয়ার পথে কেএনএফ সন্ত্রাসীদের বিক্ষিপ্তভাবে পুঁতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণের শিকার হয়। এ সময় বিস্ফোরণে সৈনিক মোন্নাফ হোসেন রাজু এবং সৈনিক মোঃ রেজাউল শরীরের বিভিন্ন অংশে স্প্লিন্টারের আঘাতে গুরুতর আহত হন। চিকিৎসার জন্য জরুরী ভিত্তিতে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাদের চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্হানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসারত অবস্থায় সৈনিক মোন্নাফ হোসেন রাজু মারা যান বলে বিজ্ঞপ্তিত জানানো হয়।

সেনাসদস্যের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। দেশের অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত কার্যক্রমের পাশাপাশি পাহাড়ী জনগোষ্ঠিীদের মানবিক সহযোগিতা প্রদান করতে গিয়ে সেনাসদস্যের এই সর্বোচ্চ ত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এরআগে, গত ১লা জুন রুমায় কেএনএফ সন্ত্রাসীদের আরেকটি আইইডি বিস্ফোরণে সেনাসদস্য সৈনিক তুজাম নিহত হন। তারও আগে, গত ১৬ মে রুমাতেই আইইডি বিস্ফোরণ ও অতর্কিত গুলিতে সেনাবাহিনীর দুজন সৈনিক নিহত ও দুই অফিসার আহত হন। গত মার্চেও বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে সেনাবাহিনীর টহল দলের ওপর কেএনএফের অতর্কিত গুলিবর্ষণে সেনাবাহিনীর মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার নাজিম উদ্দিন নিহত হন। আহত হন আরও দুই সেনাসদস্য।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে