ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসা বাণিজ্য। প্রায় ৪৫০ কারখানায় জ্বালানি খরচ বেড়েছে ১০ গুণ। উদ্যোক্তারা বলছেন, কোন এলাকায় কতক্ষণ বিদ্যুৎ থাকবে, তা জানা থাকলে পরিকল্পনা সাজানো যায়। তবে কোনও সুখবর দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

ইউনি গার্মেন্টস লিমিটেডের জিএম মোরশেদ কামাল বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর স্টার্ট দিতে হয়। এক্ষেত্রে সময় লাগে। ফলে কাজ বন্ধ থাকে। আবার ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে জেনারেটর চালু রাখতে হচ্ছে। ফলে মেশিন নষ্ট হচ্ছে। ব্যাটারি পুড়ে যাচ্ছে। তৈরি পোশাক কারখানার এই কর্মকর্তার কথায় স্পষ্ট, বাস্তবতা কতটা নাজুক। বিদ্যুৎ-ভেল্কিতে যন্ত্রপাতি বিকল হোক কিংবা ব্যয় বাড়ুক, কারখানা চালু রাখতেই হচ্ছে। না হয় অর্ডার বাতিল অথবা দাম কমার শংকা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ১০-১৫ ভাগ অর্ডার কমার মধ্যে বিদ্যুৎ ঘাটতি যেন নতুন বিষফোঁড়া।

উৎপাদন ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ ঘাটতি একেবারেই মেনে নিতে পারেন না উদ্যোক্তারা। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক এক মুহূর্তও চলে না বিদ্যুৎ ছাড়া। তবে চলমান সংকটে বিকল্প ব্যবস্থাও কার্যকর যাচ্ছে না পুরোপুরিভাবে। ফলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে চোখে অন্ধকার দেখছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাপারেলসের জেনারেটরের উচ্চ শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়। কারখানাটির মালিক জানান, দিনে ৩-৪ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে ১০ গুণের বেশি।

বিজিএমইএ’র সহসভাপতি রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গ্যাসের দাম বেড়েছে। বিদ্যুতের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই খরচ বেড়েছে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাপারেলস লিমিটেডের এমডি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। সেটা মেনে নিলেও সময়মতো শিপমেন্ট করতে না পারায় ব্যাঘাত ঘটছে। আমরা চাই, একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে লোডশেডিং করা হোক। এতে আমরা বুঝতে পারব, কখন বিদ্যুৎ থাকবে আর কখন থাকবে না। চট্টগ্রামে পোশাক কারখানা চালু আছে প্রায় ৪৫০। বিজিএমইএ বলছে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো খুঁড়িয়ে চলতে পারলেও ছোটরা পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, সংকটের কারণে ফিডারওয়ারি ৬ থেকে ৭বার লোডশেডিংয়ের যে তালিকা করা হয়, তাও মানা যায় না। তাতে কোনও এলাকায় কতক্ষণ বিদ্যুৎ থাকবে, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, মুহূর্তে মুহূর্তে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের চাহিদা পরিবর্তন হয়। কখনও ৫০, ১০০, ২০০, এমনকি শূন্য মেগাওয়াট দরকার হয়। ফলে একটিতে স্থির থাকলে আরও অব্যবস্থাপনা দেখা দেয়। চট্টগ্রামে দিনে বিদ্যুতের চাহিদা ১২০০ মেগাওয়াট। কিন্তু মিলছে গড়ে ৯০০। কখনো কখনো মেলে আরও কম।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে