অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আর দক্ষতার বিচারে দেশের অন্যতম সফল বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রা। ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রকল্প থেকে মোট উৎপাদনের ১০ শতাংশের মতো বিদ্যুৎ আসছে টানা মাস ছয়েক ধরে। যার ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচও পিডিবির গড় ব্যয়ের নিচে। কিন্তু, এই কেন্দ্রটিও এখন পড়ে গেছে ঘোর অনিশ্চয়তায়। কেন্দ্রটি পুরোদমে চালাতে দৈনিক কয়লা লাগে ১২ হাজার টন। যার পুরোটাই ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করে সিএমসি। কিন্তু, ডলার সঙ্কটে গত ছয় মাস কোনো বিল পরিশোধ না করায় বাকি পড়ে গেছে ৩০ কোটি ডলারের ওপরে। ফলে অর্থ ছাড়া কোনো কয়লা দিতে রাজি না আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে বর্তমান মজুদ দিয়ে টানা যাবে সর্বোচ্চ ৩ সপ্তাহ। পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শাহ আব্দুল মাওলা বলেন, ‘৩০০ মিলিয়ন ডলার বা তদুর্ধ্ব ডলারের কয়লার পেমেন্ট ওভার ডু হয়ে আছে বা হতে যাচ্ছে। সেটা আমরা দিতে পারছি না। যার ফলশ্রুতিতে আমাদের পার্টনার যারা আছেন তারা আর ইনভেস্ট করতে পারছেন না। সরকারিভাবে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। এখন যে কয়লা আছে তাতে এ মাস পর্যন্ত হয়তো কোনোমতে চলবে।

ভূতত্ত্ববিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরূল ইমাম বলেন, ‘আমরা বিদেশ থেকে কয়লা আনার যে সমস্ত কম্পোনেন্ট আছে সেগুলোকে ঠিকমতো অ্যাড্রেস করি নাই। যে আমার ডলার থাকতে হবে, আমার ট্রান্সপোর্ট ফ্যাসিলিটি বা যে সমস্ত উৎস থেকে আনবো তা খুঁজে বের করা। এগুলো সম্পূর্ণভাবে করা হয়নি। যে কারণে আজকে এই অবস্থা হয়েছে। শুক্রবার ৪০টহাজার টন কয়লা নিয়ে একটি জাহাজ ভিড়েছে পায়রায়। আর পুরনো ক্রয়াদেশের ভিত্তিতে সবশেষ জাহাজটি আসার কথা রয়েছে ৯ মে। এরপর অর্থ পরিশোধ করা হলেও, তার ভিত্তিতে কেন্দ্র পর্যন্ত কয়লা আসতে সময় লাগবে অন্তত ছয় সপ্তাহ। ফলে অন্তত সপ্তাহ দুয়েকের নিশ্চিত সঙ্কটের মুখে কেন্দ্রটি। অন্যদিকে মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে পরিস্থিতি বুঝিয়েও তেমন কোনো সুখবর পায়নি পায়রা কর্তৃপক্ষ।

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শাহ আব্দুল মাওলা বলেন, ‘আমরা আশাবাদী হয়তো এই ১০-১৫ দিনের মধ্যে একটা ব্যবস্থা করতে পারলে হয়তো আবার এই প্রক্রিয়া সচল হতে পারে। ভূতত্ত্ববিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরূল ইমাম বলেন, ‘ডলারের এই সংকট যদি চলতে থাকে তাহলে পায়রা এবং রামপাল এগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। এগুলো চলবে না। সেক্ষেত্রে এই গ্রীষ্মে বিরাট আকারের লোডশেডিংয়ে ফিরে যেতে হবে।বর্তমানে পায়রা কেন্দ্রে প্রতিটন কয়লা আসছে ১৪০ ডলার দরে। আর, জ্বালানির অভাবে দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে