জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।। শীগগিরই ভারতের আরও একটি সীমান্তবর্তী রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি রেল যোগাযোগ শুরু হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থেকে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় সরাসরি ট্রেন যাওয়া-আসা করবে। শুক্রবার ত্রিপুরা রাজ্যসরকারের পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী রাজধানীতে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বীনী বৈষ্ণব আগরতলা-আখাউড়া রুটের রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকরের উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তার সেই অনুরোধে সাড়া দিয়েই মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত ১৫০ কোটি রুপি এই প্রকল্পে বরাদ্দ দিয়েছে। কেন্দ্রের এই বরাদ্দের জেরে আগরতলা-আখাউড়া রুটের রেল লাইনের কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। ইতিমধ্যেই উক্ত রেল-লাইনের কাজ আমরা ভারতে ৮৫ শতাংশ শেষ করেছি। তেমনীভাবে বাংলাদেশেও ৭৩ শতাংশ কাজ শেষ করেছে বলে জানতে পেরেছি। উক্ত প্রকল্পের কাজ যে গতিতে এগোচ্ছে— তা যদি অব্যাহত থাকলে তাহলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই আগরতলা-আখাউড়া লাইনে’ ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
উল্লেখ্য যে, ব্রিটিশ শাষনামলে আগরতলার সঙ্গে আখাউড়ার সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু ছিল। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর সেই যোগাযোগে ভাটা পড়ে যায়। তারপর ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী ৫ দশকেও এই লাইনটি আর চালু করা সম্ভব হয়ে উঠেনী। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারি পর্যায়ে এই রেল নেটওয়ার্কটি পুনরায় চালু বিষয়ক একটি এমওউ(মেমোরান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই এমওইউ’র চুক্তির আওতায় আগরতলা-আখাউড়া রেললাইনের এই লাইনটি পুনর্গঠন ও পুনঃস্থাপনের কাজ পুনরায় শুরু করা হয়েছে। যদি আগরতলা-আখাউড়া লাইনে রেলযোগাযোগ চালু হয়, তবে সেক্ষেত্রে আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা রুটের ট্রেনযাত্রীরা অন্তত ১০ ঘণ্টা সময় বাঁচাতে পারবেন। বর্তমানে এই রুটের যাত্রীদের আগরতালা থেকে কলকাতা যেতে সময় লাগে ৩১ ঘণ্টা।রেলযোগাযোগ চালু হলে যাত্রীদের সময়ের পাশাপাশি অর্থের অপচয় ও কম হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক। বিডি টাইমস নিউজ



























