এস.এম. পারভেজ,ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ কাচা ময়দা দিয়ে তেলে ভেজে সেমাই প্রস্তুত করার পরে প্যাকেটজাত করে ২৫টি প্যাকেটের একটি কার্টুন তৈরী করতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। এতে মজুরী দেয়া হচ্ছে মাত্র ৮টাকা। প্রাপ্ত বয়স্ক কোন শ্রমিকের কাজ না, এটা করানো হচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়সী শিশুদের দ্বারা। শিশু শ্রম বন্ধ রাখার সরকারী নির্দেশকে অমান্য করছে ঝালকাঠি সেমাই মিল মালিকগুলো। এমনটাই দেখা গেছে ঝালকাঠি শহরের ৬টি সেমাই কারখানা ঘুরে। কারখানা মালিকদের দাবী অভাবের তাড়না তারা কাজে আসে, আমরা তাদের সাধ্যমতো বেতন দিয়ে কাজ করাই।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়া গ্রামের শ্রমজীবী রিপন ভাড়া থাকেন শহরের লঞ্চঘাট এলাকায়। তারপুত্র কিশোর (১৫) উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। ৬ সদস্যের সংসারে রিপনের একার আয়ে সংসার চালানো কষ্ট সাধ্য তাই পিতাকে সহায়তার জন্য কাজে নেমেছে কিশোর। একইভাবে পটুয়াখালী জেলার শহরের বাসিন্দা আবুল কাশেম বাসা ভাড়া থাকেন ঝালকাঠি শহরের বান্দাঘাট এলাকায়। তারপুত্র রাকিব(১৪) উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র। ৫জনের পরিবারে কাশেমের একার আয়ে সংসার চালানো কষ্ট সাধ্য তাই পিতাকে কষ্টের দিকে তাকিয়ে সহায়তার জন্য কাজে এসেছে রাকিব।
শহরের কাঠপট্টি এলাকায় জেদ্দা সেমাই কারখানায় তারা শিশু শ্রমের কাজ করছেন। আলাপচারিতায় তারা জানায়, স্কুলে পড়ার পাশাপাশি একেক সময় একেক কাজ করতে হয়। এখন রমজান মাসে সেমাই তৈরীর মৌসূম। তাই আমরা সেমাই কারখানায় কাজ করছি। তেলে ভাজা সেমাই প্যাকেটে ভরে সঠিক ওজন দিয়ে মুখ আটকিয়ে প্লাস্টিকের বস্তা (কার্টুনে) ২৫টি প্যাকেট দিয়ে একটি কার্টুন প্রস্তুত করতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। এর বিনিময়ে আমাদের দেয়া হয় ৮টাকা। এই বেতনে কাজের গতি অনুযায়ী সারাদিনে ১৩০/১৫০টাকা উপার্জন করা সম্ভব হয়।
মালিকের কাছে মজুরী বাড়িয়ে চাইলে তারা কাজ ছেড়ে দিতে বলে। কাজ না করলে তো আমরাই বিপদে পড়মু। শুধু জেদ্দা সেমাই কারখানায়ই না, বাকি মক্কা, মদিনা, মিনার, কুলসুম এবং সুর্যমুখী নামের সেমাই কারখানায়ও রয়েছে এমন শিশু শ্রম। এসমব কারখানার কয়েকটিতে রয়েছে মেয়েদের শিশু শ্রমও। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হলে বাবার সাথে অথবা মায়ের সাথে আসছে এমনই অজুহাত দেখান মিল মালিকরা। ভুল ব্যাখ্যা দেয়ার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতও কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না। এককালের দ্বিতীয় কলকাতা খ্যাত ব্যবসায়িক নদী বন্দর ঝালকাঠিতে মৌসুমী ব্যবসা হিসেবে রয়েছে ছয়টি সেমাই কারখানা। রমজান এবং ঈদকে কেন্দ্র করে জেলার লোকজনদের সেমাইয়ের চাহিদা পূরণের জন্য এসব কারখানায় সেমাই তৈরিতে চলছে ব্যস্ততার ধুম।
ঝালকাঠি ভোক্তাঅধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস জানান, ঈদ বাজারে যেন কোন ধরণের অস্বাস্থ্যকর পণ্য বাজারজাতকরণ না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। সেই সাথে শিশু শ্রমও রয়েছে। আমরা যখনই অভিযানে নামি তখন সংবাদ পেলেই শিশু শ্রমিকদের আড়ালে রাখে। আমরা ফিরলেই আবার কাজ শুরু করায়। যদি কেউ সামনে পড়ে যায়, তখনই অভিভাবকের সাথে আসার দোহাই দেয়। ইতিমধ্যে সেমাই কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরীর দায়ে সেমাই কয়েকটি কারখানায় জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঝালকাঠি নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























