জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির দলছুট নেতা উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়াকে ফাঁকা পোস্টে গোল’ দেওয়ানোর যত খেলা, সাথে সুকৌশলে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে নিজের সমর্থিত লোকজন এবং অন্যান্য দলের লোকজন। ২৪৪ ব্রাহ্মণবাড়িয়া -২ (সরাইর-আশুগঞ্জ) সংসদীয় আসনে অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনে অনেকটা ‘ফাঁকা পোস্টে গোল’ দিতে চলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়া। শক্তিশালী কোন বিরোধী প্রার্থী না থাকায় অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নানাভাবে চাপে রাখা ও নির্বাচনী প্রচারে তাঁর পক্ষে আওয়ামী লীগ মাঠে নামায় উকিল সাত্তারের জয় অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচনী প্রচারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—দুই পক্ষ থেকেই লাভবান হয়েছেন উকিল আবদুস সাত্তার ভুইয়া। পাঁচবারের সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার ভুইয়াকে বিজয়ী করতে দ্বন্দ্ব-বিভক্তি সব ভুলে এক হয়ে তাঁর পক্ষে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কাজ করে চলেছেন এবং কাজ করছেন। তবে ভোট গ্রহণের দিন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কায় আছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। নির্বাচনে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতিই এখন তাঁদের লক্ষ্য।) ২’রা জানুয়ারি সরাইল উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে উকিল আবদুস সাত্তার ভুইয়াকে সরাইলে অবাঞ্ছিত ও প্রতিহত করার ঘোষণা করেন। তাঁরা সাত্তারকে প্রতিহত করার ঘোষণাও দেন। পাশাপাশি এই উপনির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। সরাইলে উকিল আবদুস সাত্তার ভুইয়াকে অবাঞ্ছিত ও প্রতিহত করার ঘোষণা দিলেও দৃশ্যতঃ এ বিষয়ে কোনো কার্যক্রম নেই বিএনপির। মাঠে নেই সরাইল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। নির্বাচন বর্জনের কোনো প্রচারণাও তাঁরা করছেন না। গ্রেপ্তার–আতঙ্কে অনেকে এলাকা ছেড়েছেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম (ঠাকুর) বলেন, আমরা এই নির্বাচন মানি না। এই মুহূর্তে নির্বাচনবিরোধী কোনো প্রচারণাও করছি না, তাঁকে (আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া) প্রতিহত করতেও যাচ্ছি না। তবে বিএনপির কোনো ভোটার তাঁকে ভোট দিতে যাবেন না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বিজয়ী হয়েছিলেন। গত ১১’ই ডিসেম্বর ২০২২ তিনি দলীয় সিদ্ধান্তে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করার কারনে উক্ত আসনটি শূন্য হয়ে যায়। আগামী বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) উক্ত সঙসদীয় শুন্য আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে হিসেবে সোমবার সকালে নির্বাচনের প্রচার শেষ হয়েছে।এ’বছরের ৮ জানুয়ারি শুন্য আসনের উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর আটজনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন জেলা নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। পরে নির্বাচন থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা।

বর্তমানে উপনির্বাচনের মাঠে আছেন উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া যার প্রতিক (কলার ছড়া), আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু আসিফ আহমেদ (মোটরগাড়ি), জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব আবদুল হামিদ ভাসানি যার প্রতিক (লাঙল) এবং জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম (জুয়েল) যার প্রতিক (গোলাপ ফুল)। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদের খোঁজ মিলছে না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।  শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) রাত থেকে আবু আসিফ ‘আহমেদ নিখোঁজ রয়েছেন বলে রোববার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে তার স্ত্রী মেহেরুন্নিছা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

এদিকে, বুধবার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে ‘নিখোঁজ’ রয়েছেন আসিফের শ্যালক ও তার নির্বাচন পরিচালনাকারী কমিটির প্রধান সমন্বয়ক শাফায়েত হোসেন (৩৮)। এছাড়া ২৫ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে আসিফের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মুসা মিয়াকে (৮০) একটি মারামারির মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আবু আসিফ আহমেদ আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মূলত উপনির্বাচন ঘিরে সর্বত্র আলোচনা চলছে বিএনপির দলছুট নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তারকে নিয়ে। তিনি এ আসন থেকে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।  তবে দলের সিদ্ধান্তে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পরবর্তীতে নিজের ছেড়ে দেওয়া আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম কেনায় তাকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

আব্দুস সাত্তার ছাড়াও আরও তিনজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল হামিদ ভাষানী, জাকের পার্টির প্রার্থী জহিরুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদ।  তবে রাজনীতি বিশ্লেষকরা আসিফকেই সাত্তারের প্রধান ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ মনে করছেন। আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসিফ ভোটের প্রচারণায়ও এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। আবু আসিফ আহমেদের স্ত্রী মেহেরুন্নিছা অভিযোগ করে জানান, দুই দিন ধরে তার স্বামীর খোঁজ মিলছে না, আসিফের মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে। এছাড়া পুলিশ বাড়িতে এসে নানাভাবে হয়রানি করছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে