জহির সিকদার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ (সরাইল -আশুগঞ্জ) সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সকাল থেকে মনোনয়ন পত্র জমা দেন প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার(৫’ই জানুয়ারি) ছিল মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। এই উপলক্ষে সকাল থেকে উভয় উপজেলায় প্রার্থী ও সমর্থকদের পদচারণায় মুখর ছিল উপজেলা চত্বর ও তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে তফসিলে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিনে উৎসব মুখর পরিবেশে মোট ১৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাইল ও আশুগঞ্জে সহকারি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।

সরাইলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ জিল্লুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাইলে মোট ৮ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন, জাতীয় সংসদ থেকে সদ্য পদত্যাগকারী পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া (স্বতন্ত্র), জাতীয় পার্টি থেকে দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা (স্বতন্ত্র), জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী (স্বতন্ত্র), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হামিদ ভাসানী, যুবলীগ নেতা অ্যাড. আশরাফ উদ্দিন মন্তু (স্বতন্ত্র) ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মনোনীত প্রার্থী মো. রাজ্জাক হোসেন, সরাইল উপজেলার চুন্টা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম (স্বতন্ত্র) ও সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মোঃ মোহন মিয়া (স্বতন্ত্র)।

আশুগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত আশুগঞ্জে মোট ৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু আসিফ আহমেদ (স্বতন্ত্র), জেলা আওয়ামী লীগে সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন (স্বতন্ত্র), বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব শাহজাহান আলম সাজু (স্বতন্ত্র) ও জাকের পার্টির মনোনীত প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জুয়েল। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আশুগঞ্জ দক্ষিণ তারুয়া গ্রামের (রাজশাহী বিশ্বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা) শাহ মফিজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি বিএনপির হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে গত ১১ ডিসেম্বর উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করলে আসনটি শূন্য হয়। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ এর শুন্য আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি দল আওয়ামীলীগ এ আসনটিতে তাদের দলীয় মনোনয়ন না দিয়ে উন্মুক্ত ঘোষণা করে। উক্ত আসনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ। উল্লেখ্য যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপ-নির্বাচনে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছেন জাতীয় সংসদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা বিএনপি নেতা উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া।রোববার (১ জানুয়ারি) বিকেলে তার পক্ষে সাদ মোহাম্মদ রশিদ নামে এক ব্যক্তি জেলা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান। আরো উল্লেখ্য যে,১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠা করা জাগো দলের মাধ্যমে বিএনপির সঙ্গে পথ চলা শুরু হয়েছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের ৫ বারের এমপি উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়ার। তিনি সর্বশেষ দলীয় হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাতীয় সংসদ থেকে গত ১১ ডিসেম্বর ২২ ইং পদত্যাগ করেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বিএনপির এমপি উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। গত ২৯.১২.২২ইং বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পদ সহ সকল পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ৫ বারের এমপি ছিলেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হন। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তে গত ১১ ডিসেম্বর ২২ইং সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। উক্ত আসনে আগামী ১’লা ফেব্রুয়ারি উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে