অবৈধ হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠানোর দায়ে বিকাশ, রকেট ও নগদের ২৩০টি হিসাব জব্দ করেছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এসব হিসাব থেকে গ্রাহক টাকা জমা বা উত্তোলন করতে পারবেন না। তবে ভবিষ্যতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলে হিসাবগুলো খুলে দেওয়া হবে। হুন্ডি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারির পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

রেমিট্যান্স পাঠাতে হুন্ডির ব্যবহারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত বুধবার বিকাশ, রকেট, নগদসহ সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানকে এসংক্রান্ত চিঠি দেয় বিএফআইইউ। এদিকে হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। তিনি বলেন, ‘সরকারের হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারিসহ নানামুখী পদক্ষেপের কারণে আগামী জানুয়ারি মাস থেকে ডলারসংকট থাকবে না। তিনি বলেন, দেশে এখনো কোনো ডলারের সংকট নেই। তবে দেশে আন্ডার ইনভয়েসিং (কম মূল্য দেখানো) এবং ওভার ইনভয়েসিং (বেশি মূল্য দেখানো) করে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি ঠেকাতে আমরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশের উত্তরণ : জাতীয় সংলাপ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ আয়োজিত সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রউফ তালুকদার বলেন, ‘চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত অস্বাভাবিক ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছিল। এ সময় ৮.৪ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। আমরা ছয় মাসের হিসাব করে দেখেছি, এগুলো অস্বাভাবিক। সে জন্য ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছি, যাতে এ ধরনের এলসি খোলা না হয়। তিনি বলেন, ‘পুরো অর্থবছরে আমাদের ৮৯বিলিয়ন ডলারের আমদানি হয়, রপ্তানি হয় ৫২ বিলিয়ন ডলারের। এর মধ্যেও ওভার ইনভয়েসিং ছিল ২০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত। আমাদের পদক্ষেপের কারণে তা অক্টোবর ও নভেম্বরে শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এসময় তিনি হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানান।

গভর্নর বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির আকার প্রতিবছরই বাড়ছে। মুদ্রা সরবরাহের পরিমাণ জিডিপির ৪১ শতাংশ। যেটা ভারতের ৮০ শতাংশ। আমাদের মুদ্রা সরবরাহ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, দেশের চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি আর্থিক খাতে আমাদের মনোযোগ বেশি দিতে হচ্ছে। এখন আমাদের প্রাইস স্ট্যাবিলিটি ও ফিন্যানশিয়াল স্ট্যাবিলিটিতে নজর দিতে হবে। আমাদের সামগ্রিক চাহিদা কমিয়ে সরবরাহ বাড়াতে হবে। সাধারণত আমাদের দেশের মূল্যস্ফীতির কারণ হিসেবে মুদ্রা সরবরাহকে দায়ী করা হয়। মূল্যস্ফীতির কারণ মুদ্রা সরবরাহের জন্য নয়। ’

বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, হুন্ডি ও ডিজিটাল হুন্ডির ব্যাপক বিস্তার রোধে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বিএফআইইউ ও বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। এ বিষয়ে বিএফআইইউয়ের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ পাঁচটি মামলাসহ এ প্রক্রিয়ায় জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে। এ ছাড়া বিএফআইইউ সব ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করে হুন্ডির লেনদেন শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সহযোগিতায় হুন্ডিচক্র ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রয়েছে। এর আগে গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, অবৈধ পথে প্রবাস আয় (রেমিট্যান্স) পাঠানোর প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা নেবে বিএফআইইউ। বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে (হুন্ডি বা অন্য কোনো অবৈধ পথে) প্রেরণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে