বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা গেলেও বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হবে না- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ওরা যত কথাই বলুক, বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা এগিয়ে যাবো। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না।

যারা খুন ও অর্থপাচার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাদের মুখে আওয়ামী লীগের সমালোচনা মানায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত হয় মহাসমাবেশ। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মহাসমাবেশের উদ্বোধন করেন।এ’সময় আওয়ামী লীগ সভাপতিকে সভামঞ্চে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে সামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

মহসমাবেশে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যুবদের কর্মসংস্থান দিয়েছি, বিএনপি হত্যা করেছে। আর জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া? সবই তো একই ইতিহাস। হাজার হাজার যুব নেতাদের হত্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘যারা খুন ও অর্থপাচার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাদের মুখে আওয়ামী লীগের সমালোচনা মানায় না। তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশের কোনো উন্নয়ন করেনি বরং তারা ব্যস্ত ছিল লুটপাটে। এ’সময় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, চোখ থাকতে যদি কেউ অন্ধ হয় তাহলে কিছু করার নেই। বিএনপি কোনো দিন কল্পনাও করেনি বাংলাদেশের স্যাটেলাইট মহাকাশে যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের বিষয়টি। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে তাই পরনির্ভরশীল থাকা যাবে না, দেশের এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদী যেন না থাকে সেই বিষয়ে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যুবলীগ কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের গ্রামে গিয়ে কোনো জমি যেন অনাবাদী না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে সারাবিশ্বে দুর্ভিক্ষ হলেও বাংলাদেশে হবে না। শেখ হাসিনা বলেন, ‘যুবলীগ আমাদের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। যুবক থাকলে কাজ করার অনেক সুবিধা। উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে যুবদের সম্পৃক্ত করতে যুবলীগ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তরুণরাই পারে দেশকে গড়ে তুলতে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতির সঙ্গে যেন যুবকরা সম্পৃক্ত না হয় তা যুবলীগকর্মীদের নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সুর্বণজয়ন্তীতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় যুবলীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মহাসমাবেশে অংশ নেন। তাদের হাতে থাকা রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুনে উৎসবে রূপ নেয় পুরো সমাবেশস্থল। স্লোগানে স্লোগানে শুক্রবার সকাল থেকেই মুখরিত হয়ে ওঠে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের সব সড়ক। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অংশ নেন যুবলীগের নেতাকর্মীরা। বর্ণিল ফেস্টুন ব্যানার হাতে টিশার্ট আর ক্যাপ পরে প্রিয় সংগঠনের প্রতি ভালোবাসা জানান তারা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে