মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দেশের শক্তিকে নেতৃত্ব-শূন্য করতেই জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে মনে করেন ইতিহাসবিদরা। এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের খলনায়কদের খুঁজে বের করতে এবং বিচারে কমিশন গঠনের তাগিদ দিচ্ছেন ইতিহাসবিদরা। জেলহত্যা দিবসে ধানমন্ডি ৩২’নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা জানানোর পর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বনানী কবরস্থানে জাতীয় চার নেতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ’ছাড়া বেলা ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রয়েছে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা। চার জাতীয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সারা দেশে নানা আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন।

পঁচাত্তরের ৩রা নভেম্বর। এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে। সেদিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে একটি পিকআপ এসে দাঁড়ায়। রাত ৩টার দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদের কক্ষে আনা হয় ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে। এরপর একে একে তাদের হত্যা করে সেনাসদস্যরা। পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মাত্র আড়াই মাসের মাথায় ঘটে নারকীয় এই হত্যাকাণ্ড। বঙ্গবন্ধুর পর জাতীয় চার নেতাই ছিলেন, আওয়ামী লীগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব।

ইতিহাসবিদরা বলছেন, এ হত্যার উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ম্লান করে দেওয়া। নারকীয় এ ঘটনার কুশীলবদের খুঁজে বের করার তাগিদ তাদের। হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের আহ্বান ইতিহাসবিদদের।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে