
দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক দুই চাপে বড় সংকটে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত। মন্দার কারণে ক্রয়াদেশ কমাচ্ছেন ক্রেতারা। আবার যেটুকু ক্রয়াদেশ আসছে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে তার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। ধরে রাখা যাচ্ছে না পণ্যের মান। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে ভাবমূর্তি সংকটের শঙ্কায় শিল্পপতিরা। গত সেপ্টেম্বরে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যায় প্রায় সাড়ে সাত শতাংশ। টানা ১১’মাস ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পর এমন দৃশ্য দেখেছে রপ্তানি আয়ের প্রধান এ খাত। চলতি মাসেও প্রবৃদ্ধি কমার আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। তারা জানান, রপ্তানিতে মন্দার এ ধারা থাকবে আরও কয়েক মাস বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলো।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রেকর্ড মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে এসব দেশে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে আরেকটি বিশ্বমন্দার আশঙ্কা। এ অবস্থায় তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমিয়েছে ব্র্যান্ডগুলো। কিছু ক্রেতা ক্রয়াদেশ বাতিলও করেছে।
সংকট শুধু চাহিদায় নয়, উৎপাদনেও। কয়েকমাস ধরে তীব্র জ্বালানি সংকটে দেশ। কারখানায় চাহিদা মতো মিলছে না গ্যাস-বিদ্যুৎ। উৎপাদন চালু রাখতে নির্ভরতা বাড়ছে জেনারেটরের ওপর। জ্বালানি সংকটে বন্ধ রাখতে হচ্ছে কারখানা।
বিকেএমইএ সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, উদ্যোক্তারাদের হিসাবে, গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটে টেক্সটাইল ও ডায়িং কারখানায় উৎপাদন কমেছে ৫০ ভাগ, তৈরি পোশাকে ৩০ ভাগ। বৈদেশি মুদ্রার মজুতে চাপ পড়ায় গ্যাস আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অপেক্ষা আপাতত শীতের। উদোক্তারা বলছেন, উৎপাদন ও রপ্তানির পতন ঠেকাতে না পারলে বৈদেশিক মুদ্রার আয়েও বড় ধাক্কা আসবে।














