
বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের ধাক্কা লেগেছে দেশের রপ্তানিতেও। এর ফলে, ১৩’মাস পর সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। রোববার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে পণ্য ও সেবা রপ্তানি করে আয় হয়েছিলো ৩৯০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এ সময় লক্ষ্যের চেয়ে কম রপ্তানি আয় হয়েছে ৭ শতাংশ।
তবে, চলতি অর্থবছরের ৩’মাস জুলাই-সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১৩ শতাংশের বেশি। এ সময় রপ্তানি করে আয় হয়েছে সাড়ে ১২শ কোটি ডলার। গেল ৩’মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১ হাজার ২৭ কোটি ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ। এসময় কৃষিপণ্য ও হস্ত শিল্পপণ্যের রপ্তানি কমলেও, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ১৫ শতাংশের বেশি।
মূলত তৈরি পোশাকের চালান কমায় গত মাসে সার্বিক রপ্তানি কমেছে। সেপ্টেম্বরে ৩১৬ কোটি ডলারের গার্মেন্টস পণ্য চালান হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে যা ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ কম। তবে সার্বিকভাবে নতুন অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ।
উদ্যোক্তারা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোয় মূল্যস্ফীতি ব্যাপক বেড়েছে। সেসব দেশের মানুষ গাড়ির জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের বাইরে কেনাকাটা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান দু-তিন মাস ধরে ক্রয়াদেশ কম দিচ্ছেন।
এছাড়া ইপিবি বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে কৃষিপণ্য, হিমায়িত খাদ্য, হস্তশিল্প, বাইসাইকেল, আসবাব রপ্তানি কমেছে। তবে রপ্তানিতে প্রথম স্থানেই আছে তৈরি পোশাক। এরপর সবচেয়ে বেশি ৩৫ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের ওই সময়ের তুলনায় যা ২৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি। তৃতীয় অবস্থানে আছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এই ত্রৈমাসিকে তা রপ্তানি হয়েছে ৩২ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের পণ্যাদি। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের চেয়ে যা ২০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি। রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান রোববার প্রকাশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে কৃষিপণ্য, হিমায়িত খাদ্য, হস্তশিল্প, বাইসাইকেল, আসবাব রপ্তানি কমে গেছে।














