তিস্তাসহ অভিন্ন আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বন্টনে ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সমস্যা সমাধানে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও, পারস্পরিক সহযোগিতায় সমাধান করা যাবে বলে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেয়া সাক্ষাতকারে শেখ হাসিনা জানান। সাক্ষাতকারে তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারত মূখ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

ভারত বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে দেশটির আরও উদার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সোমবার নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরের আগে বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদান থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত ভারতের নানা সহযোগিতার কথা জানান শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ইস্যুতেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, দুই দেশের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এ বিষয়ে ভারতের আরো উদার হওয়া প্রয়োজন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আন্তরিক হলেও, অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে এখনো তিস্তা ইস্যুতে কোনো সমঝোতা হয়নি বলে ইঙ্গিত করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে পানি ভারত থেকে আসে, বিশেষ করে তিস্তার পানি না পাওয়ায় এদেশের মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। আমাদের দুই দেশের মানুষের সুবিধা চিন্তা করতে হবে। এক্ষেত্রে ভারতের আরো উদার হওয়া উচিত বলে মনে করে বাংলাদেশ।

ভারতের সাথে কিছু বিষয়ে মতের অমিল থাকলেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সেগুলোর সমাধান করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সব প্রতিবেশীর সাথেই বাংলাদেশ সুসম্পর্ক চায় বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, চীন-ভারত দুই দেশই আমার প্রতিবেশী, তাদের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে বাংলাদেশ কখনোই হস্তক্ষেপ করতে আগ্রহী নয়। বাংলাদেশ সবসময়ই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোনো হামলা বা নির্যাতনের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করেছে সরকার। প্রায় এক ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে দেশের জন্য বড় বোঝা উল্লেখ করে সংকট নিরসনে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশ ভারতের তুলনায় অনেক ছোট একটি দেশ। এরপরও আমার দেশ ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথেও এই সংকট নিয়ে আলোচনা করেছি আমরা। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তায় তাদের এগিয়ে আসা উচিত। করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়লেও বাংলাদেশের অর্থনীতি যথেষ্ট শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা। দেশে শ্রীলঙ্কার মতো অর্থসংকটের শঙ্কা উড়িয়ে দেন তিনি। ঋণ খেলাপি হিসেবে বাংলাদেশের কোনো দুর্নাম নেই বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে