
তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে ভারতকে জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে, নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এবারও সর্বাত্মক চেষ্টার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একথা জানিয়েছে, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। দিল্লিতে যৌথ নদী কমিশনের ৩৮তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে আজ দেশে ফিরে বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈঠকে তিস্তা ছাড়াও কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ যে পানি পায় তার সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য একটি সমীক্ষার বিষয়ে একমত হয়েছে ঢাকা-নয়াদিল্লি।
এছাড়াও, বৈঠকে গঙ্গা, তিস্তা, মনু, মুহুরি, খোয়াই, গুমতি, ধরলা, দুধকুমার ও কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয় আরও কয়েকটি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন সংক্রান্ত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির জন্য তথ্য-উপাত্ত বিনিময়ের।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ সফরে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মধ্যে প্রবাহিত অভিন্ন ৫৪ নদীর মধ্যে ছয়টি নদীর পানিবণ্টন ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসবে। কুশিয়ারা নদী থেকে ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনে সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘বৈঠকে আমরা তিস্তা ইস্যু নিষ্পত্তির জন্য ভারতকে চাপ দিয়েছি। তারা সুরাহার আশ্বাস দিয়েছে। আগামী মাসে বাংলাদেশ সফরে আসবেন ভারতের পানিমন্ত্রী। প্রতিবছর মার্চ-এপ্রিলে জেআরসি মিটিংয়ের আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের পানিমন্ত্রী।’
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এবং ভারতের জলশক্তি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং সাখাওয়াত গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জেআরসি বৈঠকে নিজ নিজ দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন। এ সময় বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।














