শাহনেওয়াজ শাওন,বগুড়া সংবাদদাতা।। বিশ্ব কিডনি দিবস বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ)। এ বছর কিডনি দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘সবার জন্য সুস্থ কিডনি’। প্রতি বছর মার্চের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার এই দিবসটি পালিত হয়। এ উপলক্ষ্যে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কিডনি বিভাগে উদ্যোগে র‍্যালি শেষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় । বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল ও কলেজ হাসপাতালের নেফ্রালজি (কিডনি) বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডাঃ আ ন ম এহসানুল করিমের সভাপত্বিতে উক্ত অনুষ্ঠানে ব্ক্তব্য রাখেন,শজিমেক ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগে: জেনা: জুলফিকার আলম বলেন,দেশে কিডনি রোগের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। তাই প্রতিকারের পাশাপাশি কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা খুবই জরুরি।

পরিচালক আরো বলেন,অসচেতনতার কারণে দিন দিন হাসপাতালে গুলোতে কিডনি রুগির সংখ্যা বেড়েই চলছে ।কিডনি বিকল হওয়ার মূল তিনটি কারণ হলো,ডায়বেটিকস,উচ্চ রক্তচাপ ও অতিরিক্ত টেনশনের কারনে কিডনির রোগ হয়ে থাকে। কিডনি রোগ অসচেতনতার কারণে ধীরে ধীরে মানব দেহে উন্নতি লাভ করে এবং কিডনি নষ্ট করে ফেলে। কিডনি রোগ নিরব ঘাতকের মত। কিন্তু আমাদেরকে কিডনি রোগ বিষয়ে বেশি বেশি সজাগ থাকার পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে কিডনি রোগ প্রতিরোধ করতে হবে । এছাড়াও যত্রতত্র এ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ঔষধ সেবনেও কিডনি নষ্টের বিরাট ভূমিকা রাখেন বলে মনে করেন তিনি। বিশ্বজুড়েই কিডনি রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বাংলাদেশের ৯০ভাগ কিডনি রোগী ডায়ালাসিস সেবা নিতে পারে না । ডায়ালাসিস এর অভাবের কারণে বেশি ভাগ কিডনি রোগী মারা যায় । শজিমেক হাসপালের উপ-পরিচাল ডাঃ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন,কিডনি রোগের জনগণের মাঝে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রতিবছর (১৪ মার্চ) কিডনি রোগ বিষয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকি আমরা। আমি এই কর্মসূচিকে স্বাগত জানায় । যাতে করে কিডনি রোগীসহ যারা ভুক্তভুগি আছে তাদের তাদের মাঝে সজাগ সৃষ্টি হয় ।

কিডনি রোগ সাধারণত ৭০ ভাগ বিকল বা নষ্ট হওয়ার পর কিডনি রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।শুরুতেই কিডনি রোগ জানা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিরোধ করা বা চিকিৎসা করা সহজ হয় । শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ,ডাঃ রেজাউল আলম জয়েল বলেন,আমরা জানি যে,সারা বিশ্বে ২০০৬ইং সালে র্মাচ মাসের ২য় বৃহস্পতিবার এ কিডনি দিবস উযাপিত হয়।সারা বিশ্বের মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এ দিবসটি পালন করা হয়। আমরা জানি কিডনি রোগ এখন একটি মারাত্নক আকার ধারণ করেছে।আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অধিক লোক প্রায় ২২ দশমিক ৮ ভাগ মানুষ কিডনি রোগে আক্রন্ত। কিন্তু কিডনি রোগীদের জন্য যথেষ্ট চিকিৎসা সেবার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে যা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে পর্যাপ্ত নয় । আমরা সকল মানুষের জন্য ডায়ালাসিসের ব্যবস্থা করতে পারি না। কারণ আমদের শজিমেক হাসপাতালে অনেক রোগীকে ডায়ালাসিসের জন্য সিরিয়াল দিয়ে বসে থাকতে হয় । সে কারনেই এত সংখ্যক মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেয়া অনেক কঠিন। মানুষকে সচেতনতার মাধ্যমে এই কিডনি রোগকে প্রতিরোধ করতে পারি তাহলেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে। আর সে কারনে আমাদের এই সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান বেশি বেশি করা দরকার বলে মনে করি ।

তিনি আরো বলেন,বাংলাদেশে কিডনি রোগের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রায় ৩কোটি ৮০ লক্ষ কোন না কোন ভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর প্রায় ৪০হাজার মানুষ নতুনভাবে কিডনি রোগে আক্রন্ত হচ্ছে।এছাড়াও প্রতি বছর প্রায় ৪০হাজার মানুষ কিডনিরোগে ধুকে ধুকে মারা যায় ।কিডনি মানবদেহের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বর্তমানে সাধারণ এবং জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমানোর জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। র‍্যালি আলোচনা সভায় শজিমেক হাসপালের নেফ্রালজি (কিডনি) বিভাগের সকল চিকিৎক, র্নাস,কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।শজিমেক ও হাসপাতালের নেফ্রালজি (কিডনি) বিভাগের রেজিষ্ট্রার এ এইচ এম সানজেদুল হক সুমন পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে