দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতার জন্য বৈশ্বিক সংকট নয়, বরং আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনাই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তার মতে, সংকট মোকাবিলায় অংশ্রগ্রহণ ও পরামর্শমূলক একটি নীতি সমঝোতা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সাথে এক অনলাইন আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় ৬টি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের বর্ধিত ভর্তুকির জন্য অর্থের সংস্থান করা। পাশাপাশি বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ব্যবহার এবং উচ্চ-অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জ বলে জানান অর্থমন্ত্রী। কিন্তু চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই চ্যালেঞ্জের সংখ্যা আরো বেশি বলে মনে করেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে এক অনলাইন আলোচনায় ড. দেবপ্রিয় বলেন, আর্থিক খাত সংস্কার না করায় এখন তার ফল ভোগ করছে বাংলাদেশ। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সার্বিক মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারেও। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বর্তমান রোগের একটি উপসর্গ মাত্র। মূলত, বাংলাদেশের আর্থিক খাতের যথাযথ সংস্কার হয়নি। তিনি আরো বলেন, সরকারকে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে হবে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে উৎসাহ দিতে হবে এবং অসুবিধাগ্রস্ত মানুষকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে শুধু তা দিয়ে পুরো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার। তিনি বলেন, বৈশ্বিক এই পরিস্থিতি অনেক দেশই যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে পারছে। আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, এখন যদি আমাদের কর জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশ থাকত তাহলে বর্তমানের এতো চাপ তৈরি হতো না। এক লাফে জ্বালানির দাম এত বাড়ানো ঠিক হয়নি বলে মনে করেন ড. দেবপ্রিয়। যার জন্য ভর্তুকি কাঠামো পুনর্বিবেচনা করার তাগিদ দেন তিনি।
এদিকে, সম্পূর্ণ বাজারের উপর ছেড়ে না দিয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি, ঋণ-আমানতের সুদের হার নয়-ছয়ে না রেখে একটি সীমা বেধে দেয়ার তাগিদ দেন এ অর্থনীতিবিদ।














