দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা জালিয়াত ও পাচারের সঙ্গে জড়িত প্রশান্ত কুমার হালদারকে(পি কে হালদার) ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দেশে ফেরানো যাবে বলে মনে করেন দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। ভারতের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি থাকায় কাজটি কঠিন হবে না বলেও মত তার।

তাই সব প্রক্রিয়া শেষে করে পি কে হালদারকে দ্রুতই দেশে ফেরানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। খুরশিদ আলম বলেন, “ভারতকে পি কে হালদারের বিষয়ে দুদকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইডি অনুসন্ধান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। বাংলাদেশের অনুরোধকে গুরুত্ব দিয়ে একই দিনে ৯টি বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে ইডি। ৯টি বাড়ির মধ্যে ৩টি বাড়ি তারা এক সপ্তাহ ধরে রেকি করেছিল, যার একটা থেকে পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার করা হয়”।

তিনি আরো জানান, ‘পি কে হালদারকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী। তবে সব প্রক্রিয়া শেষ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ইডি তাকে রিমান্ডে নিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে তারা কী ব্যবস্থা নেয়, তার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে। সব মিলিয়ে পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে তিন থেকে ছয় মাসের মতো সময় লাগতে পারে’।

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনও বলছেন, তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে সব উদ্যোগ নেয়া হবে।

ভারতে অবৈধভাবে পাসপোর্ট ও ভোটার আইডি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে। সেকারণেই তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে দেশটি। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনতে তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

পি কে হালদারের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৩৭টি। এর মধ্যে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলাটি বিচারাধীনে। ৩৬টি অর্থপাচারের মামলার ৩ তদন্ত শেষ, বাকিগুলো তদন্তাধীন।

নানা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা লোপাটের গুঞ্জন আছে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে। শনিবার পশ্চিমবঙ্গের অশোক নগর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট-ইডি।

তথ্যঃ ইন্ডিপেনডেন্ট

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে