প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার রায় আজ। ২৭ মার্চ রায়ের দিন ঠিক করেন অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল-মামুন। ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জঙ্গি হামলার শিকার হন হুমায়ুন আজাদ। ৭০ দিনের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ফেরেন। পরে ১২ আগস্ট জার্মানির মিউনিখে পাওয়া যায় তার মরদেহ।বাংলা সাহিত্যের বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদ। যার লেখায় রয়েছে ধর্ম, মৌলবাদ, প্রতিষ্ঠান ও সংস্কার বিরোধিতা, যৌনতা, নারীবাদ ও রাজনীতি। একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এই শিক্ষক।
১৯৯২ সালে হুমায়ুন আজাদের ‘নারী’ প্রকাশের পর শুরু হয় বিতর্ক। ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বইটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছিল। ২০০৩ সালে ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশ হয় হুমায়ুন আজাদের ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাস। পরের বছর একুশে বইমেলাতে বের হয় বই। এতে জামায়াতে ইসলামীকে ফ্যাসিবাদী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এতেই ক্ষুব্ধ হয় মৌলবাদী গোষ্ঠী।
২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসায় ফেরার পথে বাংলা একাডেমির উল্টোদিকে ফুটপাথে জঙ্গি হামলার শিকার হন হুমায়ুন আজাদ। পরদিন তার ছোট ভাই মঞ্জুর কবির হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। ২২ দিন সিএমএইচে এবং ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসা নেন। ঐ বছরের ১২ আগস্ট জার্মানির মিউনিখে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। পরে হত্যাচেষ্টা মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।
২০০৭ সালে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দুই বছর পর মামলার বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। পরে ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল ৫ জেএমবি নেতাকে অভিযুক্ত করে নতুন চার্জশিট আদালতে জমা দেয় সিআইডি।
মামলার আসামিরা হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের সদস্য সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন, আনোয়ারুল আলম, মিজানুর রহমান, নুর মোহাম্মদ এবং হাফিজ। এর মধ্যে সালেহীন ও নূর পলাতক এবং বাকি ২ জন কারাগারে। হাফিজ প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। তদন্তকালে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় মিনহাজ ও নুর।
ঐ তদন্তেই বেরিয়ে আসে এ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও সেক্ন্ডে ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই।২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। হত্যার ১৮ বছর পর ২৭ মার্চ শেষ হয় বিচারিক কার্যক্রম।
তথ্যঃ ইন্ডিপেনডেন্ট














