১৯৭১ সালে শুধুমাত্র দেশের জন্য হাজার হাজার মা-বোন তাদের সম্ভ্রম বিসর্জন দিয়েছিলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার রমা চৌধুরী শুধু সম্ভ্রম নয়, সে সময় হারিয়েছেন তার দুই শিশু পুত্রকেও। ১৯৯৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় তার আরেক ছেলেও। মুক্তিযুদ্ধের পর আর কখনো পায়ে জুতা পরেননি একাত্তরের এই জননী। হাজারো অভাব, অনটনের মধ্যেও কখনো কারো কাছে থেকে কোন সাহায্য গ্রহণ করেননি ৭৬ বছর বয়সী এই নারী। নিজের লেখা বই খালি পায়ে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে নির্বাহ করেছেন জীবন-জীবিকা। একাত্তরের জননী খ্যাত বীরঙ্গনা রমা চৌধুরী গুরুতর অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নানা জটিল ব্যাধিতে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন তার সাথে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় তার অবস্থা সংকটাপন্ন। জরুরি ভিত্তিতে তাকে অস্ত্রোপচার করতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রমা চৌধুরী বলেন, ‘আমি বাঁচতে চায় স্বাধীন সাবলম্বী আত্মনির্ভরশীল হয়ে। আমার বইপত্র নিয়ে কেউ আমাকে টাকা দিলে আমি খুশি হবো। আমি দান, সাহায্য বা ঋণ নেবনা।’ রমা চৌধুরীর সহকারী ও বইয়ের প্রকাশক আলাউদ্দীন খোকন বলেন, ‘উনি ত্যাগের মাধ্যমে জীবন-যাপন করেছেন। ভালো কিছু খেতে বললে, পরতে বললে উনি পরতেন না। জীবন-যাপন যত সহজে করা যায় ততই ভালো, সেটা উনি আমাদেরকেও শিক্ষা দিয়েছেন।’ আর্থিক অনটন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে জীবন সংগ্রামী রমা চৌধুরীর শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা ধরনের রোগ। সেই সাথে ঘরে পরে গিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছেন কোমরের হাড়। তাই মায়ের চিকিৎসার জন্য দেশের মানুষের কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছেন তার একমাত্র ছেলে।
রমা চৌধুরীর সন্তান জহর লাল চৌধুরী বলেন, ‘৭১ এর আগে আমার মা ছিলো এক রকম এখন হয়ে গেছে আর এক রকম। জয় বাংলা প্রেমী যারা আছেন তাদেরক অনুরোধ করবো যেনো আমার মায়ের চিকিৎসায় সবাই এগিয়ে আসে।’ অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় দ্রুত তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় অস্ত্রোপচার করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল’র সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সমিরুল ইসলাম।
১৯৪১ সালের ১৪ই অক্টোবর বোয়াখালী উপজেলার পোপাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রমা চৌধুরী। একাত্তরের জননীসহ ১৮টি গ্রন্থ লিখেছেন এই জীবন সংগ্রামী নারী।
অনলাইন ডেস্ক, বিডি টাইম্স নিউজ


























