কুয়েতে আটক বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিনের ৬১৩টি ব্যাংক হিসাব, সব জমি ও ফ্ল্যাট জব্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক।

৮টি ব্যাংকের পাপুল ও তার পরিবারের ৬১৩টি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেছে। একই সাথে তাদের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানের মোট ৩০.২৭ একর জমি, গুলশানের ফ্ল্যাট জব্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

এদিকে, দুপুরে সিআইডি প্রধান মাহবুবুর রহমান জানান,চার বছরে সংসদ সদস্য পাপুল ও তার পরিবার দেশের ১৯টি ব্যাংকে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা লেনদেন করেছে। সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

সিআইডি প্রধান জানান, দেনদেন করা টাকার মধ্যে ৩৮ কোটি ২২ লাখ টাকা ইতোমধ্যে ফ্রিজ করার আবেদন করা হয়েছে। মানবপাচার করে যে টাকা আয় করেছে, তার বেশিরভাগই বিদেশে পাচার হয়েছে। কোথায় পাচার করা হয়েছে সে বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে বলে জানান সিআইডি প্রধান মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, আমরা প্রায় ১৩ টা ব্যাংকে এসব টাকার তথ্য পেয়েছি। আর যে সম্পদগুলো আছে সেগুলোও মামলার মধ্যে সংযুক্ত করার জন্য আমরা আদালতে আবেদন করেছি।

মানব ও অর্থপাচারের দায়ে কুয়েতে গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ৩৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ এনে মামলা করে সিআইডি। পাপুল ছাড়াও তার স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন ও পাপুলের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অর্থ পাচার আইনে মামলা করা হয়েছে। রাজধানীর পল্টন থানায় মানিলন্ডারিং আইনেও মামলা হয়।

গত ৭ জুন মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে সংসদ সদস্য পাপুল কুয়েতে গ্রেপ্তার হন। ৭ জুলাই মতিঝিল থানায় মানবপাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এরপর থেকে পাপুলের মানবপাচার, অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জন নিয়ে তদন্ত শুরু করে দুদক ও সিআইডি।

তথ্যঃ ইন্ডিপেন্ডেন্ট

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে