কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগের ৩১’জেলায় বিভেদ স্পষ্ট হয়েছে। কোথাও-কোথাও আলাদা কমিটি প্রস্তাব করেছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এরই মধ্যে কেন্দ্রের দপ্তরে জমা পড়েছে অসংখ্য অভিযোগ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সেগুলো। দলের নেতারা জানান, নাম যাই আসুক, সুবিধাভোগী বা অনুপ্রবেশকারী কেউ কমিটিতে ঢুকতে পারবেনা। যে জায়গা দেবে ব্যবস্থা নেয়া হবে তার বিরুদ্ধেও।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পহেলা অক্টোবর ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি এবং পদ পেয়েছে হাইব্রিড নেতারা। বগুড়া, সিলেট জেলা ও মহানগর, ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নোয়াখালী, খুলনা, কক্সবাজার, হবিগঞ্জ, রাজশাহী জেলা ও মহানগরসহ অন্তত ২০ থেকে ২১টি জেলার প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এসব নিয়ে প্রতিদিনই কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন জেলার নেতারা।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, অনেক কমিটির বিপরীতে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় পর্যায় থেকে লিখিত অভিযোগ এসেছে। কারও অন্তর্ভুক্তির বিপক্ষে এসেছে, আবার কারও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন এসেছে। অনেকে নিজেকে বঞ্চিত মনে করেছেন, একারণে তারা অভিযোগ করেছেন। প্রায় সাত মাস পর শনিবার দলের সবশেষ কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে তিন ঘণ্টার বেশি সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। নেতারা জানান, বিভিন্ন জেলার কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, গত জাতীয় সম্মেলনের আগে নেত্রী সবাইকে একসাথে করে অনেক পরিশ্রম করে সব কমিটিগুলো করেছিলেন, কিন্ত সেই কমিটি থেকে অনেককে বাদ দিয়ে বর্তমানে খসড়া কমিটি পাঠানো হয়েছে। এটি নেত্রীর নজরে এসেছে। নেত্রী সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, যারা যোগ্য, দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করছেন, তাদেরকে শুধু গ্রুপিংয়ের জন্য বাদ দিলে, যারা বাদ দেবেন তাদেরই পরিস্থিতি খারাপ হবে। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নেত্রী। এসব অভিযোগ যাচাইয়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নেতৃত্বে আটটি বিভাগীয় টিম গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে ৩১ জেলার সংকট দূর করবে তারা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, যে অভিযোগ এসেছে সেগুলো বিভাগীয় কমিটি পর্যালোচনা করবে, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা। যেসব জায়গায় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক একমত হতে পারেন নি, সে ব্যাপারে বিভাগীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। প্রধানমন্ত্রী বিভাগীয় কমিটিকে বলেছেন, দলের শৃংখলা রক্ষায় প্রয়োজনে কঠোর হবো। এছাড়া, সম্মেলন না হওয়া ৪৭ জেলায় আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের দায়িত্বও এ টিমগুলোর।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে