বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ প্রকৌশলী, স্থাপত্যশিল্পের আইনস্টাইন বলা হয় তাকে। তিনি বাংলাদেশি স্থপতি ফজলুর রহমান খান। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর বিখ্যাত সিয়ারস টাওয়ারসহ নামিদামি অনেক স্থাপত্যের সাথে জড়িয়ে আছে তার নামটি। আকাশচুম্বি ভবন নির্মাণের যুগান্তকারী ডিজাইন-টিউব স্ট্রারাকচারাল সিস্টেম থিউরির জনক তিনি। ১৯২৯ সালের আজকের দিনে পুরান ঢাকার আগামসি লেনে জন্ম তার।
জ্ঞানের উৎকর্ষতায় বাঙালী যে কতটা উঁচুতে উঠতে পারে, তা আঁচ করা যায় আমেরিকার শিকাগোয়। এ শহরেই মেঘফুরে দাঁড়িয়ে সিয়ারস টাওয়ার, ১৯৯৬ পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন ছিলো এটি। মালিকানা বদলে যদিও এখন এর নাম উইলিস টাওয়ার। যার স্থপতি একজন বাংলাদেশি। নাম ফজলুর রহমান খান। বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ এ স্থপতিকে বলা হয়, নির্মাণশিল্পের আইনস্টাইন। আকাশচুম্বি ভবন নির্মাণের যুগান্তকারী নকশা-টিউব স্ট্যারাকচারাল সিস্টেম তত্ত্বের জনক তিনি।
জন্ম ১৯২৯ সালের তেসরা এপ্রিল। পুরাণ ঢাকার আগামসি লেনে। পৈত্রিক নিবাস ফরিদপুরে। ৫০ এর দশকে মাত্র ২৩ বছর বয়সে, ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় অ্যাট আর্বানাতে। এখানে লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে, যোগ দেন প্রকৌশলীদের সংস্থা-এসওএমে। তারপর পুরোটাই ইতিহাস। তার হাতে একে একে তৈরি হয়েছে, শিকাগোর শততম ‘জন হ্যানকক সেন্টার, মিলবেকি ব্যাংক সেন্টার, ওন্টারি সেন্টার, হুবার্ট এইচ হাম্পফেরি মেট্রোডোম ও শিকাগোর ওয়ান ম্যাগনিসেন্ট মাইল।
সৌদি আরবে জেদ্দা বিমানবন্দর, ৫০ হাজার বর্গফুটের হজ টার্মিনাল আর মক্কা বিশ্ববিদ্যালয় তার স্থাপত্য শৈলিতেই হয়েছে দৃষ্টি নন্দন। ৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে প্রচারণায় সরব ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে। প্রবাসীদের নিয়ে গড়ে তোলেন একটি দলও। ১৯৮২ সালের ২৬ মার্চ জেদ্দায় মৃত্যুবরণ করেন এ কিংবদন্তি। শিকাগোর গ্রাসল্যান্ডে চিরনিন্দ্রায় শায়িত বাংলাদেশের এ সূর্য্যসন্তান। ৮৮তম জন্মদিনে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে পৃথিবী। সার্চইঞ্জিন গুগলও তার সম্মানে প্রকাশ করেছে বিশেষ গুগল ডুডল।
নিউজ ডেস্ক, বিডি টাইম্স নিউজ














