কোলকাতা থেকে শুভঙ্কর মুখোপাধ্যায়ঃ মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অবিরাম পদক্ষেপে রাজ্যবাসী অশার আলো দেখছেন। রুজির আশঙ্কা নিয়ে জনজীবন যখন ডুবে, ঠিক তখন তাদের আরও ভালো লাগছে, যখন রাজ্যের সকল-দল এই দুর্যোগের বিরুদ্ধে সবাই একসাথে লড়াইয়ে সামিল হয়েছে। কোলকাতার বাসিন্দা বিপ্লব চ্যাটার্জী, হাওড়ার সোমনাথ-সরকারসহ বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক এ প্রসঙ্গে েই প্রতিনিধিকে তাদের অভিমত ব্যক্ত করে জানান, ‘অনেকদিন পর এই রাজ্যে সরকারি ও বিরোধী দলকে একসাথে দেখে আমাদের ভরসাস্থলো অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে’।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দপাধ্যায় সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি  আহবান জানিয়ে বলেন ‘‌এখন রাজনীতি ভুলে আসুন আমরা এই মহামারী প্রতিরোধে এক সাথে কাজ করি’। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদাত্ত আহবানে রাজ্যের সকল বিরোধিদলই তার পাশে থেকে দুর্যোগ মোকাবেলার আশ্বাস দিয়েছেন। এর পরই সোমবার  বিকেলে মুখ্যমন্ত্রীর কার্য্যালয় নবান্নে বিপর্যয় নিয়ে সর্বদলীয় একটি  বৈঠক আনুষ্ঠিত হয়। এদিনের বৈঠকে করোনা মোকাবিলায়

এ যাবৎ রাজ্য সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তসমূহ জানায় মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়েছেন নতুন সিদ্ধান্তের কথাও। উপস্থিত নেতারা মুখ্যমন্ত্রী  পাশে থাকার  আশ্বাস দিয়েছেন। ইতিমধ্যে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনা মোকাবেলায়  অর্থিক আনুদান ছাড়াও সকল পর্যায়ের সহয়তা দেয়ার জন্য সকল দলের নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষরিত ‘ সর্বসম্মত  একটি প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে রাজ্য শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্রোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এদিনের সর্বদলীয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের আবদুল মান্নান, প্রদীপ ভট্টাচার্য, সিপিএমের সূর্যকান্ত মিশ্র ও সুজন চক্রবর্তী, সিপিআইয়ের প্রদীপ দেব, স্বপন ব্যানার্জি, এসইউসিআইয়ের তরুণ নস্কর।  বিজেপি–‌র ছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার ও সায়ন্তন বসু, তৃণমূলের সুব্রত বক্সি ও পার্থ চ্যাটার্জি। প্রত্যেক দলের নেতৃবৃন্দ সর্বদলীয় বৈঠকে ডাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এদিকে রাজ্যের সর্বত্র তৃতীয় দিনেও শান্তপূর্ণভাবে লক-ডাউন পালিত হচ্ছে। এই কর্মসূচী গত ২৩শে মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। এই মারণ ভাইরাস-এর সক্রমণ রোধে রাজ্য প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। যে সকল ব্যক্তি  সরকারী নির্দেশ আমাণ্য করে বাইরে বেড় হবার চেষ্টা করে তাদের  লাঠিপেটা করে ঘরে ঢোকাতে হয়েছে পুলিশকে।   ।

এদিকে  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজ্যে দিনমজুর, গরিব ও অপক্ষাকৃত দরিদ্র মানুষ সকলকে প্রথমিকভাবে একহাজার টাকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী এইজন্য একটি তহবিল গঠন করার কথাও বলেছেন। তিনি এই তহবিলে অবস্থাসম্পন্ন সকলক পর্যায়ের ব্যক্তি-বর্গকে মুক্ত হস্তে দান করার জন্য  আবেদন জানিয়েছেন।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে