কোলকাতাঃ রাজ্যে আরও একজন আক্রান্ত হলেন করোনাভাইরাসে। শনিবার  নতুন আক্রান্ত  হলেন দমদমের এক পৌ্ঢ় ব্যক্তি। এ নিয়ে  রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৪-এ। দমদমের ঐ বাসিন্দার আগে রাজ্যে আরও তিন জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনা ভাইরাসে। দু’জন ইংল্যান্ড পড়াশুনো করতেন। আর এক জন  উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার  হাবড়ার এক ২৩ বছরের  তরুণী, তার দেহেও শনিবার করোনার জীবানু ধরা পড়ে। সে গত চারদিন আগে স্কটল্যান্ড থেকে মুম্বই হয়ে কলকাতায় আসে। বর্তমানে তরুণীসাহ আক্রান্ত সকলকেই বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আগে আক্রান্ত প্রত্যেকেই বিদেশ থেকে সংক্রামিত হয়ে এসেছেন মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্তারা। কিন্তু চতুর্থ আক্রান্ত দমদমের ঐ ব্যক্তির  বিদেশ ভ্রমণের কোন তথ্য  ইতিহাস নেই। বিষয়টি রাজ্যের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দমদমের পৌঢ় ব্যক্তি কোথায় এবং কাদের কাদের  সংস্পর্শে ছিল তার ডিটেইল্ড তথ্য চিহ্নিত করতে হবে, না  হলে সমূহ বিপদ। রাজ্যের প্রধান স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী বাসসকে এই তথ্য দিয়ে বলেন আমরা এ ব্যাপরে তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা করছি।

এই নিয়ে রাজ্যে করোনার পজেটিভ মিলে দাঁড়িয়েছে ৪-এ। বেলেঘাটা হাসপাতালের সহকারি তত্বাবধায়ক ডা: চৈতালী সেন গুপ্ত  বাসস-কে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, হাবড়ার ঐ তরুণীর ট্রাভেল হিস্ট্রি ট্র্যাক করা হচ্ছে। ঐ তরুণী স্কটল্যান্ড থেকে ফেরার পর কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন। আদৌ তিনি হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন কী না সেই সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি ঐ তরুণীকে আনতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন তার বাবা, তাকে এবং তাদের গাড়ির চালককেও  নমুনা পরীক্ষার জন্য বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। রাজ্যে করোনায় দ্বিতীয় আক্রান্ত ব্যক্তি বালিগঞ্জের। বালিগঞ্জের ২২ বছরের এই যুবক ব্রিটেন থকে সম্প্রতি বাড়ী ফেরেন। সে বালিগঞ্জের পণ্ডিতিয়া রোডের বাসিন্দা। তার পরিবারের সবাইকেও তলব করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত দু’দিনে  নতুন করে ১৭ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য নাইসেড ও পিজিতে পাঠানো হয়েছিল, তার মধ্যে  ১৬ জনের নমুনা রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এর মধ্যে একজনের রিপোর্ট নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ায় পুনরায় পরীক্ষার জন্য সেটি পিজি থেকে নাইসেডে পাঠানো হয়েছে। সোমবার তার রিপোর্ট পাওয়া যাবে।

 এদিকে  রাজ্যের  স্বাস্থ্যসচিব বিবেক কুমার বলেন, রাজ্যবাসীর কাছে অনুরোধ, বিদেশ থেকে যারা ফিরবেন তাদেরকে অন্তত ১৪ দিনের জন্য গৃহবন্দি থাকতে হবে। করোনা-র ভাইরাস নিয়ে যত্র-তত্র  ঘুরে বেড়িয়ে নিজের ও অন্যের বিপদের কারণ হবেন না। বিভিন্ন সূত্রে যদি জানতে পারা যায়, যারা এই আইন মানেননি তাহলে মহামারী আইনের নয়া বিধি অনুযায়ী, জনস্বার্থে তাকে জোর করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠাবে সরকার, এমনকি তাদের বিরুদ্ধে মহামারী আইনের আওতায় ব্যাবস্থা নেয়া হবে। সচিব বিবেক কুমার বলেন এই নির্দেশ খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছেন। 

 শুক্রবার বালিগঞ্জের আরও দুই বাসিন্দাকে পুলিশ কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে। তার মধ্যে একজন ব্রিটেন থেকে ফিরেছিলেন। পুলিস কমিশনার অনুজ শর্মা এক বার্তায় জানিয়েছেন, দু’জনেই কোয়ারেন্টাইনে যেতে অস্বীকার করায় তাদেরকে মহামারী আইন প্রয়োগ করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সে-র মাধ্যমে সন্মিলিতভাবে এই দুর্যোগ আপদকালীন অবস্থা বিবেচনায় যাবতীয় প্রতিরোধ ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য দেশের সকল রাজ্যের  মুখ্যমন্ত্রীদের তৈরী থাকার অনুরৌধ জানিয়েছেন।

শুভঙ্কর মুখোপাধ্যায়, কোলকাতা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে