রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগে আরো সেনাকে সামরিক আদালতে বিচার করা হবে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। মিয়ানমার সরকার নিযুক্ত একটি কমিশন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অনেক সেনা যুদ্ধাপরাধ করেছে বলার পর শুক্রবার এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধাপরাধ ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত চৌকিতে হামলা চালিয়ে নয় জনকে হত্যা করে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। সেনাবাহিনী অভিযানে নামলে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় অন্তত ৭ লাখ রোহিঙ্গা।

সেনাবাহিনী তাদের ওয়েবসাইটে একটি পোস্টে জানায়, তারা প্যানেলের প্রতিবেদনটি সবিস্তারে পড়েছে এবং অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে দেখছে। সেনাবাহিনী জানায়, দুটো গ্রামে সেনাদের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একটি হচ্ছে মং নু গ্রাম যেখানের অধিবাসীরা তদন্ত প্যানেলকে ২শ মুসলিম হত্যার তথ্য জানিয়েছে। আরেকটি হচ্ছে ‍চুত পাইন গ্রাম যেখানে আরো ডজন খানেক মানুষ হত্যার অভিযোগ আছে।

বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, দ্য কোর্ট অব ইনকোয়ারি এ ঘটনাগুলো তদন্ত করবে এবং আইনানুগভাবে সামরিক ন্যায়বিচার অনুযায়ী কোর্ট মার্শাল করা হবে। এদিকে, ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) জানায়, আন্তর্জাতিক চাপে নয় বরং মিয়ানমারের সরকারি কমিশনের প্রতিবেদনের কারণে এ বিচারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এর আগে ২০১৭ সালের ঘটনার পর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ও এনএলডি উভয়পক্ষই রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল।

উল্লেখ্য ২০১৭ সালের অগাস্টে রাখাইনে কয়েকটি সীমান্ত পুলিশ পোস্টে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় নয় পুলিশ নিহত হওয়ার পর রাজ্যে বিশেষ করে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সেনা অভিযান শুরু হয়। প্রাণ বাঁচাতে সেখানকার প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পেরিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশ আশ্রয় নেয়।

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা জানায়, গণহত্যার অভিপ্রায় নিয়েই মিয়ানমার সেনাবাহিনী এই অভিযান চলিয়েছে।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে