ভারতের দিল্লিতে গত চারদিন ধরে সংখ্যালঘু মুসলমান ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধীদের সঙ্গে বিজেপি-আরএসএস-পুলিশের নজিরবিহীন সংঘাতের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি, রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের দিন রোববার সংঘাত শুরুর পর থেকে তিন দিনে এই ২৩ জন নিহত হন। সিএএ নিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাত আরো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
মৃত্যুমিছিল আটকানো যাচ্ছে না রাজধানী দিল্লিতে। বুধবার সকালে আরো ৫ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। তাতে চার দিনের মাথায় সেখানে মৃত্যুসংখ্যা দাঁড়ালো ২৩ জনে। আহতের সংখ্যাও তিনশতাধিক।মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত দিল্লিতে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৩। এ দিন সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় আরো চার জনকে গুরু তেগবাহাদুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে, তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। পরে হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় আরো একজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের এমডি সুনীলকুমার গৌতম। বেলা বাড়লে আরো দু’জনের মৃত্যু হয়।দুপুরে চাঁদ বাগ থেকে এক গোয়েন্দা অফিসারের দেহ উদ্ধার হয়।
এনডিটিভি ও আনন্দবাজার জানিয়েছে, এই সংঘাতে আহত হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ, হতাহতদের মধ্যে হিন্দু-মুসলমান উভয়েই রয়েছেন। আহত তিনশোর মধ্যে ৭০ জনই গুলিবিদ্ধ।
বুধবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে নতুন করে পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হয় উত্তর-পূর্বের ব্রহ্মপুরী-মুস্তাফাবাদ এলাকায়। গোকুলপুরীতে একটি পুরনো জিনিসপত্রের দোকানেও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। দমকলের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বুধবার সকালে নগরীর চান্দবাগ এলাকায় সিএএ-র সমর্থক ও বিরোধীদের পরস্পরের দিকে পাথর নিক্ষেপের মধ্যেই আএএফ, সিআরপিএফ ও দিল্লি পুলিশের বহু সদস্য সেখানে অবস্থান নিয়েছে। সকালে দাঙ্গা কবলিত অন্যান্য এলাকায়ও পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী অবস্থান নিয়েছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।
নগরীর দাঙ্গাকবলিত উত্তরপূর্বাঞ্চলে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। কোথাও কোথাও অস্বস্তিকর নীরবতা নেমে এসেছে। বুধবার সকালে এই এলাকাগুলোকে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো দেখাচ্ছিল বলে প্রত্যক্ষদশী সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।
অনলাইন নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














