কৃষকদের প্রধান অর্থকারি ফসল গুলোর মধ্যে পিঁয়াজ অন্যতম। পিঁয়াজ চাষের জন্য বীজতলা প্রস্তুত, বীজ বপন ও পরিচর্যা, এরপর পিঁয়াজের চারা রোপনের জন্য জমি প্রস্তুত, চারা রোপন, পরিচর্যা ও কৃষকের ঘরে আসতে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে প্রতি মণে খরচ হয় ৮ /৯ শত টাকা।কিন্তু পিঁয়াজের বর্তমান বাজার মূল্য ১শত থেকে সাড়ে ৭ শত টাকা। এতে কৃষকদের প্রতি মণে ১ – ২ শত টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলাধীন পান্টি বাজারে সরেজমিন গেলে, কতিপয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পিঁয়াজের মান ও গুণ ভেধে তিন শ্রেণিতে ক্রয় – বিক্রয় করা হয় । সবচেয়ে ভাল পিঁয়াজ ৬ শত থেকে ৭ শত টাকা, মিডিয়াম পিঁয়াজ সাড়ে ৩ শত টাকা থেকে ৫ শত টাকা এবং নিম্নমানের পিঁয়াজ গুলো ১ শত থেকে ৩ শত টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।
এবিষয়ে কৃষক আমিরুল বলেন, পিঁয়াজের দাম খুবই কম, এভাবে চলতে থাকলে পিঁয়াজ চাষের উপর থেকে মুখ ফিড়িয়ে নেবেন কৃষক। তিনি আরো বলেন, এক মণ পিঁয়াজ উৎপাদন করতে ৮/৯ শত টাকা খরচ হয়।কিন্তু বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬/৭ শত টাকা।এবিষয়ে খুলনা থেকে পান্টি বাজারে আসা ব্যবসায়ী রোকন বলেন, বাজার মূল্য কম হওয়ায় গত সপ্তাহের পিঁয়াজ এখনও বিক্রি করতে পারিনি। আজও বেশকিছু পিঁয়াজ কিনেছি। তিনি আরো বলেন, আজ ২ শত টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ৬ শত টাকা পর্যন্ত মণ পিঁয়াজ কিনেছি।
প্রাকৃতিক প্রতিকূলতায় পিঁয়াজের মান নিম্নমানের হওয়াই এবং বাজারে পিঁয়াজের আমদানি বেশি হওয়াই পিঁয়াজের দাম কম বলে জানান নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন ব্যবসায়ী।জানা যায়, প্রতি বছর বিঘা প্রতি ৫০/৭০ মণ পিঁয়াজ উৎপাদন হলেও এবার প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও শিলা বৃষ্টির কারনে ২০/৪০ মণ উৎপাদন হয়েছে।
এবিষয়ে কুমারখালী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস বলেন, উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়ন সহ পার্শবর্তী কয়েকটি জায়গাতে শিলা বৃষ্টির কারনে পিঁয়াজের ব্যাপক ক্ষতি হলেও অন্যান্য জায়গা তেমন কোন প্রভাব পরেনি প্রাকৃতিক দুর্যোগের। তিনি আরো বলেন, এবার জাতভেদে ৫০ থেকে ৭০ মণ পিঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে বিঘা প্রতি, এতে কৃষকদের লোকসান হওয়ার কথা নয়।
প্রিতম মজুমদার
কুষ্টিয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














