ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র আহবানে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের দরপত্রে পূর্বশর্ত আরোপের অভিযোগ ওঠায় এই নির্দেশ দেয়া হয়। সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কারিগরী ইউনিটের পর্যবেক্ষণেও সরকারি ক্রয় বিধিমালা এবং দাতা সংস্থার শর্ত লংঘনের কথা বলা হয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনাল বা সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহবান করা হয় ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কারিগরী ইউনিট সিপিটিইউ এর পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা যায়, দরপত্র আহবানের পর বিশে^র একাধিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবকাঠামো নির্মাণ করতে এসে বিশেষ শর্তের কারণে দরপত্র কিনতেই পারেনি। এ সম্পর্কে সরকারের কাছে অভিযোগ দেয় তুরস্কের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গ্যাপ-ইনসাত-টিএভি। দুবাই, ওমান, মাস্কাট, আমস্টারডামসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই  নির্মাতা প্রতিষ্ঠান- জাইকার সাথে নির্মাণ কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা ও ২০০৪ সালের আইএসও সনদ থাকার শর্ত অগ্রহণযোগ্য ও অপ্রয়োজনীয় বলে অভিযোগ করে। এরপরই দরপত্র প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে সিপিটিইউ।

এদিকে, তুরস্কের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গ্যাপ-ইনসাত বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও অভিযোগ করে। পরে ১৩ই মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক পত্রে সিভিল এভিয়েশনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও দরপত্রে পূর্ব শর্ত আরোপ ও সময় ক্ষেপণের বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে তদন্তের নির্দেশ দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

গ্যাপ-ইনসাত-টিএভি সমস্যার সমাধান চেয়ে ১৪ মার্চ রিট করলে সিপিটিইউ’র পর্যবেক্ষণ বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৬১৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১১ হাজার ২১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান জাইকার ঋণ থেকে আসবে। বাকি টাকার যোগান সরকারি তহবিল থেকে দেয়া হবে।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে