রাজধানীর চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৭০ জন মারা গেছে। আরও ৯ জন দগ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত। চুরিহাট্টা মসজিদের সামনে রাস্তায় দাঁড়ানো একটি গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে পাশের ৫ তলা ভবনে আগুন লাগে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। ভবনের নীচে রাসায়নিক গুদাম থাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৪০টি ইউনিটের প্রায় ১২ ঘন্টা প্রচেষ্টায় সকালে আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ধ্বংসস্তুপ থেকে একের পর এক বের হয় মরদেহ। এ ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাতভর আগুন জ্বলার পর ভোরের আলো ফোটার সময় যখন আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রেণে আসে, তখন দেখা যায় আরেক ভয়াবহ দৃশ্য। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তুপ থেকে বের করে আনতে থাকেন একের পর এক পুড়ে যাওয়া মরদেহ। যেন আগুনের তাণ্ডব শেষে এক মৃত্যু উপত্যকা। পুরনো ঢাকার চকবাজারে বুধবার রাত ১০টার দিকে পাঁচতলা ভবনে আগুন লাগে। পাশের ভবনটির নিচতলায় রাসায়নিক গুদাম থাকায় আগুন মুহুর্তেই ভয়াবহ রূপ নেয়। ছড়িয়ে যায় আশেপাশের আরো পাঁচটি ভবনে।

আগুন লাগার পরপরই উদ্ধার কাজে অংশ নেয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। রাঝদানীর ১৩টি স্টেশন থেকে যোগ দেয় ৪০টি ইউনিট। তাদের সাথে যোগ দেয় রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীরাও। দীর্ঘ চেষ্টার পর ভোরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করলে পুড়ে যাওয়া ভবন গুলোয় প্রবেশ করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। খোঁজ মেলে মরদেহের।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বিডি টাইম্‌স নিউজকে জানান, ওই ভবনের সামনের রাস্তায় দাঁড়ানো একটি প্রাইভেট কারের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত। এমন ভয়াবহতার কারণ হিসেবে রাসায়নিক গুদামকে দায়ী করছেন উদ্ধারকারীরা।  সকলের সার্বিক প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঢাকা দক্ষিন সিটির মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস, সিটি কর্পোরেশন, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে সকালে বিমান বাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার থেকে পানি ছিটানো হয়। ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশের আইজিপি সাংবাদিকদের জানান, রাসায়নিক কারখানাগুলো স্থানান্তরে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হবে।

এরপর দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের জানান, উদ্ধার কাজসহ সার্বিক পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী নিজেই তদারকি করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সবরকমের সহায়তায় পাশে আছে সরকার। এসময় রাসায়নিক কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অগ্নিকান্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে