গত তিন অর্থবছরে কিছুটা লাভের মুখ দেখলেও আবারও লোকসানে ডুবতে শুরু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। মিশর থেকে ভাড়ায় আনা দুটো উড়োজাহাজের জন্য বছরে গচ্চা যাচ্ছে ১২০ কোটি টাকা। তেল কোম্পানি পদ্মা ও সিভিল এভিয়েশনের কাছে বকেয়া প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। বিভিন্ন অনিয়ম আর আর্থিক ক্ষতি ও দেনার কারণে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারছে না বাংলাদেশ বিমান।\

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে থাকা ১৩টি উড়োজাহাজের মধ্যে সাতটিই ভাড়ায় আনা। এগুলোর মধ্যে ২০১৪ সালে পাঁচ বছরের ভাড়ায় ইজিপ্ট এয়ার থেকে আনা হয় ট্রিপল সেভেন-টু হানড্রেড মডেলের দুটি এয়ারবাস। তবে, ডানা মেলার দ্বিতীয় বছর থেকেই একের পর যান্ত্রিক ত্র“টি আর ইঞ্জিন বিকল হবার কারণে উড্ডয়ন ক্ষমতা হারিয়ে এখন পড়ে আছে এই দুটি উড়োজাহাজ। এ কারণে এরইমধ্যে বিমানের তিনশো কোটি টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনও বলা হয়েছে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে এই দুটি উড়োজাহাজ ভাড়া নেয়ার সিদ্ধান্ত ছিলো ‘আত্মঘাতি’। বছর বছর অর্থ গচ্চা দিলেও বিমান কর্তৃপক্ষ কেন এর সমাধানে কোন পদক্ষেপ নেয়নি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানালেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক।
জেট ফুয়েল কেনা বাবদ তেল কোম্পানি পদ্মার কাছে বিমানের বকেয়া প্রায় ৮ কোটি টাকা। সারচার্জসহ এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯শ’ কোটি টাকায়। ২০১৪ সালে প্রতিবেশি দেশের সাথে সমন্বয় করে বিমানের জন্য তেলের দাম নির্ধারণ করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন। কিন্তু পদ্মা এখনো আগের দাম অনুযায়ী বিল পাঠাচ্ছে বিমানকে। এ নিয়ে জটিলতার কারণে পদ্মার কাছে বিমানের দেনা বাড়ছে। এদিকে, ল্যান্ডিং ও পার্কিং চার্জ থেকে শুরু করে বিমানবন্দর ব্যবহারের জন্য সিভিল এভিয়েশনের কাছেও বিমানের দেনা প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বলে জানালেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক।

২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিন অর্থবছরে কিছুটা লাভের মুখ দেখেছিলো জাতীয় পতাকাবাহী এই এয়ারলাইন্স সংস্থাটি। তবে ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আবারও লোকসানে পড়ছে বিমান বলে জানান তিনি।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














