বীর মুক্তিযোদ্ধা, বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আর নেই। আজ ভোরে হৃদরোগে রাজধানীর আফতাব নগরের বাসায় তিনি শেষ নিশ^াস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার মৃত্যুর খবরে পেয়ে বাসায় ছুটে যান সংস্কৃতি ও সঙ্গীত অঙ্গনের তার পরিচিতজনরা।

দীর্ঘদিন ধরে প্রায় লোকচক্ষুর অন্তরালেই ছিলেন বাংলা গানের অমর শ্রষ্টা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। ২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলখানায় গণহত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার পর থেকে নিরাপত্তার কারণে তিনি প্রায় গৃহবন্দি ছিলেন। রাজধানীর আফতাবনগরের ভাড়া বাসায় একমাত্র ছেলে সামিরকে নিয়েই কাটতো তার দিনরাত্রি। সঙ্গীত নিয়ে আরাধনাই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান। তবে শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না ৬৩ বছর বয়সী বরেণ্য এই গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালকের। গত বছরের মাঝামাঝি আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের হার্টের ধমনীতে ৮টি ব্লক ধরা পড়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। তার হার্টে দুটি রিং পরানো হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলাবার ভোররাতে বুকের ব্যথায় নিথর হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত তাকে রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল থেকে মরদেহ আবার আফতাবনগরের বাসায় নেয়া হয়। খবর পেয়ে সংস্কৃতি ও সঙ্গীত অঙ্গনের অনেকেই হাসপাতাল ও তার বাসায় ছুটে যান। আহমেদ ইমতিয়াজের মৃত্যুতে ভেঙ্গে পড়েন অনেকেই। তার মরদেহ রাখা হয়েছে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের হিমঘরে। তার বোন কলকাতা থেকে আজই ঢাকা আসবেন। আগামীকাল বুধবার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সকাল ১১টায় তার মরদেহ নেয়া হবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে। গুনি এই সংগীত পরিচালকের মৃত্যুতে সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
একাত্তরের রনাঙ্গনের সৈনিক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার পর ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলখানায়। সেখানে ৪৯জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা। ওই গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া ৫ জনের একজন হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বুলবুল।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














