বুড়িগঙ্গার তলদেশের বর্জ্য উত্তোলনে অর্ধযুগেরও বেশী সময় ধরে কোন উদ্যোগ। আদালতের নির্দেশে সবশেষ ২০১০ সালে নদীর তলদেশের পলিথিন ও বর্জ্য অপসারণের কাজ করে বিআইডব্লিউটিএ। এরপর নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। তবে, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান জানালেন, এ ব্যাপারে নেয়া হয়েছে বড় পরিকল্পনা। যা বাস্তবায়ন হলে ফিরবে নাব্যতা, কমবে দূষণ। এদিকে, পরিবেশবিদরা বলছেন, পরিকল্পনার নামে দীর্ঘ সময় ব্যয় করা হচ্ছে। যা বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

রাজধানী ঢাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী বুড়িগঙ্গা। যে নদীকে ঘিরে একসময় গড়ে উঠেছিলো ঢাকার পুরান অংশ সেই নদীই এখন বিপন্ন। যার অন্যতম কারণ বর্জ্য। শিল্প প্রতিষ্ঠান ও মানুষের বর্জ্য সরাসরি বুড়িগঙ্গায় ফেলায় যেমনি দূষিত হচ্ছে পানি তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে নাব্যতা। সবশেষ ২০১০ সালে বুড়িগঙ্গার তলদেশ থেকে বর্জ্য অপসারণের একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএ। বাবুবাজার বাদামতলী থেকে নবাবগঞ্জ-কামরাঙ্গীরচরের দিকে বুড়িগঙ্গার তিন কিলোমিটার অংশের বর্জ্য সরানো হয়। এরপর নেয়া হয়নি আর কোন উদ্যোগ।

তবে বর্জ্য অপসারণ ও নদী রক্ষায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানালেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান। তিনি বললেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বুড়িগঙ্গা ফিরে পাবে তার আদি রূপ।

নদী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে পরিশোধনের ব্যবস্থা ছাড়াই করা হয়েছিলো বর্জ্য অপসারণের কাজ। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাও করা হচ্ছে না। ফলে বেড়েছে নদীর দূষণ। কমেছে নাব্যতা। পরিকল্পনার নামে কালক্ষেপন না করে দ্রুতই নদীর বর্জ্য অপসারণের তাগিদ দিলেন তারা।

তবে শুধু বর্জ্য অপসারণই নয়, সেই সাথে রাজধানীর বাসাবাড়ি, বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের পয়ঃ ও শিল্প বর্জ্য যেন আবারো নদীতে গিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে জানালেন এই বিশেষজ্ঞ।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে