মৌসুমের শুরুতেই নাব্য সংকটে পড়েছে ভোলা–ঢাকা, ভোলা–বরিশাল ও ভোলা–লক্ষ্মীপুরসহ অন্তত ২০টি নৌপথ। এসব নৌ–রুটের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচরের কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচলকারী লঞ্চ ও ফেরিগুলো নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের। নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য দ্রুত সঠিকভাবে ড্রেজিংয়ের দাবি সংশ্লিষ্টদের।
দ্বীপ জেলা ভোলায় মেঘনা–তেঁতুলিয়া নদীকে ঘিরে জালের মতো ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে অসংখ্য নদী। এসব নদীকে কেন্দ্র করে চলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আর ব্যবসা–বাণিজ্য। অথচ নদীগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নদীর বুকে জেগে ওঠা অসংখ্য ডুবোচরে প্রায়ই আটকা পড়ছে যাত্রী ও পণবাহী নৌযান। সব মিলিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই অঞ্চলের নৌপথের চলাচল।
বিশেষ করে ভোলার ভেদুরিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটসংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ২ কিলোমিটার, মেহেন্দীগঞ্জের শ্রীপুরের এক কিলোমিটার ও লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরী ঘাটের রহমত খালী চ্যানেলের ১ কিলোমিটার ভাটার সময় সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। এছাড়া কুয়াশার কারণে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও ফেরিগুলো নদীর মধ্যে ঘণ্টার পর আটকে থাকছে। ফেরি চলাচল করছে জোয়ার–ভাটার উপর নির্ভর করে। এতে সময় ও বিড়ম্বনা বেড়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় বয়া ও মার্কার বাতি না থাকায় কুয়াশা ও ভাটার সময়ে লঞ্চ চালাতে বিপাকে পড়তে হয় চালক ও মাস্টারদের।
এমভি ক্রিস্টাল ক্রুজ লঞ্চের মাস্টার মো: কামাল হোসেন বলেন,ডুবোচরের কারণে দিন দিন লঞ্চ চলাচল করতে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ভোলা খাল থেকে বের হতেই সময় লেগে যায় ৩ থেকে ৪ ঘন্টা। ফলে যাত্রীদের রাজধানীতে সময় মতো পৌঁছাতে পারি না। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তির কারণে যাত্রীসংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। মালিকও লোকসানে আছে। আমাদের স্টাফদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।
এমভি কর্ণফুলী লঞ্চের মাস্টার বাবুল মাস্টার ও শহীদ মাস্টার বলেন, ভোলা খাল থেকে বের হতেই আমাদের কয়েক ঘন্টা লেগে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভেদুরিয়া, পাঙ্গাসিয়া এলাকায় গেলেই আমাদের কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় জোয়ারের জন্য। এখান থেকে বেচে হতে অনেক বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। গত বছর ড্রেজিং করছে এ বছর ড্রেজিং করছে অথচ কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না।
ভোলা–বরিশাল লঞ্চের মাষ্টার মানিক লঞ্চের মাষ্টার মানিক বলেন, ড্রেজিং করে এপাশের মাটি ওপাশে ফালায় কিন্তু কোন কাজই হচ্ছে না। তাই দ্রুত পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং করা না হলে অচিরেই এসব নদীপথ বন্ধ হয়ে যাবে।
একই অবস্থা ভোলা–লক্ষ্মীপুর ও ভোলা–বরিশাল ফেরী রুট গুলোতেও। এখানেও বিভিন্ন রুটের পণ্যবাহী ট্রাক এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে দুর্ভোগ লেগেই থাকে এই রুটগুলোতে।
এব্যাপারে ভোলা (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ–বন্দর ট্রাফিক অফিসার নাসিম আহমেদ বলেন, নৌপথে নাব্যতা রোধ করার জন্য ইতিমধ্যে কিছু কিছু পয়েন্টে ডেজিং চলছে। বাকি পয়েন্টগুলোতে ডেজিং করানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি অচিরেই ডেজিং করানো হবে। ভোলা থেকে প্রতিদিন ঢাকা–বরিশাল রুটে অর্ধশতাধিক ছোট–বড় লঞ্চ ও ৫টি ফেরি চলাচল করে।
ফয়সল বিন ইসলাম নয়ন,
ভোলা নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














