তিস্তা নদীর গতিপথ পরিবর্তন করেছে রংপুরের শঙ্করদহে ফলে প্রায় ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিস্তা দ্বিতীয় সড়ক সেতুসহ নদীর ডান-তীরে হাজার কোটি টাকার অবকাঠামো অর্থহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত তিস্তা দ্বিতীয় সড়ক সেতু। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রংপুর ও লালমনিরহাটসহ উত্তরের কোটি মানুষ। কিন্তু এখন হতাশা আর অনিশ্চয়তায় ঢাকা পড়েছে স্বপ্ন জাগানিয়া সেতুটি। এর সাত কিলোমিটার উজানে শঙ্করদহে গতিপথ বদলে নতুন চ্যানেলে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তার মূল শ্রোতধারা। এতে শত শত ঘর-বসতি, ফসলি জমি, স্কুল-কলেজসহ অনেক কিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু তার চেয়েও বড় ক্ষতি আর অনিশ্চয়তায় পড়েছে এই সেতুসহ ডান-তীরের শহর রক্ষা, বন্যা-নিয়ন্ত্রণ ও ভাঙন রোধে গড়া হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন অবকাঠামো। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শঙ্করদহে নদী থেকে নির্বিচার বালু তোলাই এই বিপর্যয়ের কারণ। জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, বাঁশের পাইলিং দিয়ে নতুন চ্যানেল বন্ধ করার চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড, এতে লাভ হবে না।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, ‘পানি চলাচল আমরা বন্ধ করতে না পারলে পুরাতন প্রাথমিক বিদ্যালয় ভেঙে যেতে পারে। আর এমনটি ঘটলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া একক প্রচেষ্টায় তিস্তা নদীর প্রবাহ রোধ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন-অর-রশীদ বলেন, আমরা কার্যক্রমের মধ্যেই আছি, যাতে নদী সেখানে শিফট হয়ে না যায় এবং আমরা ব্রিজটা রক্ষা করতে পারি।এনিয়ে কথা বলতে রাজি হননি এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। তবে, একজন নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ভরা বর্ষায় ঢল নামছে, এই মুহূর্তে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই।

আদনান রহমান সৌরভ
নিউজ ডেস্ক, বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে