শ্রীলঙ্কায় কারফিউ জারি করেও থামানো যাচ্ছে না অর্থনৈতিক সংকটের জেরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আর সহিংসতায়। আর সঙ্কট সমাধানে শ্রীলঙ্কায় এ সপ্তাহেই নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপক্ষে।তিনি বলেছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ ২২৫ আসনের জনপ্রিতিনিধিদের প্রতিনিধিত্ব করবে। প্রয়োজনে পার্লামেন্টকে আরো ক্ষমতা দিতে সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা হবে।
এক বিবৃতিতে গোটাবায়া রাজাপক্ষে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এবং থমকে যাওয়া সরকারি কার্যক্রম চালিয়ে নিতে একটি নতুন সরকার গঠনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।এদিকে, শ্রীলঙ্কায় কারফিউ জারি করেও থামানো যাচ্ছে না সরকার বিরোধী বিক্ষোভ। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়াকে ক্ষমতাচ্যুত করতে কারফিউ ভেঙ্গে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে নানা শ্রেণীর মানুষ। সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে, আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
এদিকে, আগামী দুই দিনের মধ্যে নতুন সরকার গঠন না করা গেলে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ধসে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর রাস্তায় সতর্ক অবস্থানে সেনাবাহিনী। চেকপয়েন্ট বসিয়ে চলছে তল্লাশি। সোমবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ-সহিংসতায় ৯ জন নিহত হয়েছেন-বলছে বিবিসি। কারফিউ’র মেয়াদ বাড়িয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত করা হয়েছে। সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে, সব দলকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের।
শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় সরকারবিরোধীদের সঙ্গে সরকারপন্থিদের সংঘর্ষের দু’দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্বেগ এখনও কাটেনি। এরইমধ্যে বিক্ষোভ-সহিংসতা এড়াতে সাজোঁয়া যান নিয়ে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী। চেকপোস্ট বসিয়ে চলছে তল্লাশি।এর আগে, বিক্ষোভের মধ্যে লুটেরাদের গুলির নির্দেশ দিয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকার। বুধবারও প্রেসিডেনশিয়ার সচিবালের বাইরে বিক্ষোভ হয়। তাবু টাঙিয়ে সেখানেই অবস্থান করছে আন্দোলনকারীরা।
এদিকে, দেশের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগ ছাড়া বিকল্প নেই বলে মনে করেন বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষ।এক আন্দোলনকারী বলেন, আমাদের মূল দাবি প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার পদত্যাগ। সরকারকেই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের দায় নিতে হবে। গোতাবায়া পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।কোনো প্রধানমন্ত্রী নেই, মন্ত্রিসভা নেই। তারপরও কারফিউ চলছে। দেশের এই পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট দায়ী। অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের কারণে।
বিবিসির খবর শ্রীলঙ্কাজুড়ে কারফিউ’র মধ্যে কলম্বোতে বেশকটি দোকান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের ছেলের- মালিকানাধীন রিসোর্টে আগুন দেয়া হয়েছে। বন্ধ ছিলো বেশিরভাগ দোকানপাট, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কার্যালয়।
এদিকে, জনরোষের মুখে মাহিন্দাকে সরিয়ে একটি নৌঘাঁটিতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ তার পরিবার ও দেশটির এমপিরা ভারতে পালিয়ে গেছেন এমন খবর নাকচ করেছে শ্রীলঙ্কায় ভারতের হাই-কমিশনার। একইসঙ্গে ভারত থেকে সেনা পাঠানো হচ্ছে না বলেও জানানো হয়েছে।
তথ্যঃ ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি














