আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে এবার বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়িতে বাঙালি সংস্কৃতি ও তাঁতশিল্পের গল্প তুলে ধরেছেন মিস গ্র্যান্ড বাংলাদেশ অনন্যা ফাতিমা। লাল শাড়ি, ঘোমটা ও নথের সাজে বাঙালি কনের আবহের পাশাপাশি পোশাকের অনুষঙ্গে উঠে এসেছে দেশীয় কারিগরদের শ্রম ও শিল্প।
ব্যাংককের এমজিআই হলে বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’-এর ন্যাশনাল কস্টিউম প্রতিযোগিতা। এতে প্রায় ৮০ দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরেন অনন্যা ফাতিমা।
অনন্যার জাতীয় পোশাকে ছিল বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি। লাল শাড়ি, ঘোমটা ও নথে ফুটে ওঠে বাঙালি নারীর ঐতিহ্যবাহী সাজ। পোশাকের সঙ্গে ব্যবহৃত তাঁতের বিভিন্ন অনুষঙ্গের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে জামদানি তৈরির সঙ্গে জড়িত কারিগরদের শ্রম ও শিল্প। একটি পোশাকের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, বয়নশিল্প ও ঐতিহ্যের গল্পই বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন অনন্যা। একই দিনে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ প্রিলিমিনারি রাউন্ড। সাঁতারের পোশাক ও ইভনিং গাউন পর্বে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে দেখা যায় বাংলাদেশী এই প্রতিযোগীকে। রুপালি গাউনে ক্যাটওয়াকেও ছিল তার সাবলীল উপস্থিতি। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ‘বেস্ট ন্যাশনাল কস্টিউম’ প্রতিযোগিতার ভোটিং। ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া প্রথম রাউন্ডের ভোট চলবে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এর আগে ‘কান্ট্রিজ পাওয়ার অব দ্য ইয়ার’ ভোটিংয়েও আলোচনায় ছিল বাংলাদেশ। প্রথম ধাপে ৮০ দেশের মধ্যে ১৪তম হয়ে টপ ৪০-এ জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।
মিস গ্র্যান্ডের মঞ্চে অনন্যা ফাতিমার যাত্রা শুরু হয়েছে আরও আগে। ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ক্লোজডোর ইন্টারভিউ, স্যাশ সেরেমনি ও গালা নাইটসহ বিভিন্ন আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ২৫ বছর বয়সী অনন্যা ২০২৩ সালে ‘মিস ইন্টারকন্টিনেন্টাল’ প্রতিযোগিতাতেও বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিয়েছিলেন। মডেলিংয়ের পাশাপাশি অ্যাঙ্করিং, অভিনয় ও ফ্যাশন নিয়েও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
প্রথমে ভারতে প্রতিযোগিতাটি আয়োজনের কথা থাকলেও পরে আয়োজকদের সিদ্ধান্তে পুরো আয়োজন সরিয়ে নেয়া হয় থাইল্যান্ডে। সেপ্টেম্বর থেকে চলা বিভিন্ন পর্ব শেষে ১০ অক্টোবর ব্যাংককের এমজিআই হলে অনুষ্ঠিত হবে ‘মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে।
